শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় কবি স্থপতি রবিউল হুসাইনকে বিদায়

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেন একুশে পদকজয়ী কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন। গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মরদেহ রাখা হয় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের মরদেহে।

শ্রদ্ধা জানিয়ে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘রবিউল হুসাইন সব সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে চলেছেন। কবি হিসেবেও নিজেকে অনন্য করে তুলেছেন।’ নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘বহুমাত্রিক কাজের মাধ্যমে আমাদের সবার কাছে পরিচিত হয়েছে রবিউল হুসাইন। তিনি আমাদের সঙ্গে সব প্রগতিশীল আন্দোলনে ছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন।’ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘স্থপতি রবিউল হুসাইন দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তিনি আমাদের প্রেরণা জুগিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।’ সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সমুন্নত রাখার জন্য সারাজীবন কাজ করে গেছেন রবিউল হুসাইন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান তার বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানায়- আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলা একাডেমি, শিশু কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। শহীদ মিনারে ১২টা পর্যন্ত রেখে তারপর রবিউল হুসাইনের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজার জন্য নেওয়া হয়। পরে তার কফিন নেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। সেখান থেকে রবিউলকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন (৭৬) গত সোমবার মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি এক ছেলে রেখে গেছেন।