ডাকঘরে মোবাইল মানি অর্ডার চালু না হওয়ায় সেবাবঞ্চিত

ডাক বিভাগের মোবাইল মানি অর্ডারে (ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস-ইএমটিএস) প্রতি হাজারে মাত্র ৫ টাকা কমিশন হলেও গাইবান্ধার ১৪৪টি শাখা ডাকঘরে এই সেবা চালু না করায় সেবাবঞ্চিত হচ্ছে মানুষ।

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল মানি অর্ডারে (ইএমটিএস) ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ১০ টাকা, ৩ হাজারে ১৫, ৫ হাজারে ২৫, ৭ হাজারে ৩৫, ১০ হাজারে ৫০, ১৫ হাজারে ৭৫, ২০ হাজারে ১০০, ২৫ হাজারে ১২৫, ৩০ হাজারে ১৫০, ৪০ হাজারে ২০০ ও ৫০ হাজার টাকায় ২৫০ টাকা কমিশন নেয় ডাক বিভাগ। এভাবে গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘর, জজকোর্ট ডাকঘর, সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা ডাকঘর, নলডাঙ্গা, বামনডাঙ্গা, মহিমাগঞ্জ, বোনারপাড়া, ভরতখালী উপ-ডাকঘর, নাকাইহাট ও কাজলা ডাকঘরসহ মোবাইল মানি অর্ডার করা যাবে সারা দেশের ২ হাজার ৭৫০টি ডাকঘরে। শুধু প্রধান ডাকঘরের দেয়ালে একটি ব্যানার টানানো ছাড়া আর কোনো প্রচার চোখে পড়েনি এই সেবার।

সদর উপজেলার ধুতিচোরা গ্রামের স্কুলছাত্র মিজানুর রহমান বলেন, বাবা নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকের কাজ করে গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠান বেসরকারি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। ফলে বেশি টাকা কমিশন দেওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা।

বিভাগীয় ডাক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার চন্দ্র মোদক বলেন, শাখা ডাকঘরগুলোতে সেবাটি চালু না করায় লেনদেন করতে পারছে না মানুষ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সরকারের এই সেবা না পৌঁছায় স্বল্প আয়ের মানুষ ও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। তাই অতিদ্রুত শাখা ডাকঘরেও এই সেবা চালু করার জোর দাবি জানান ডাক বিভাগের এই নেতা।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, শাখা ডাকঘরগুলোতে মোবাইল মানি অর্ডার সেবা চালু করলে বেশি উপকৃত হবে স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। শাখা ডাকঘরগুলোতে এই সেবা চালু করা ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের বিষয়। মোবাইল মানি অর্ডারের বিষয়টি প্রচারের জন্য কোনো লিফলেট ও অর্থ না পাওয়ায় প্রচার চালানো যাচ্ছে না।