মাল্টি-ডিসিপ্লিন গেমসে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বেজায় আপত্তি ভারতের। এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরেও তারা ক্রিকেট টিম পাঠায় না। এসএ গেমসে ক্রিকেট নিয়ে তাদের অবস্থান একই। আর ভারতের না থাকার অর্থ দক্ষিণ এশিয়ার অপর তিন শক্তিশালী দল বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের সোনার পদকের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া। গ্রুপিংয়ে ভারতের নাম থাকলেও এবারও শোনা যাচ্ছে ক্রিকেটে অংশ নেবে না তারা। আর তাই বাংলাদেশও তাকিয়ে সেরা সাফল্যের দিকে। ২০১০’র ঢাকা গেমসে ক্রিকেট স্বর্ণপদক জিতেছিল মোহাম্মদ মিঠুনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ। ২০১৬’র গৌহাটি-শিলং গেমসে ক্রিকেট রাখেনি ভারত। তাই বাংলাদেশ এবার অংশ নেবে ‘ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সদ্য ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপে যাদের কাছে ফাইনালে হারতে হয়েছে সেই পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দল, স্বাগতিক নেপাল এবং মালদ্বীপ। ‘বি’ গ্রুপে ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে আছে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-২৩ দল এবং ভুটান। ১ ডিসেম্বর নেপালের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে যাওয়া বাংলাদেশ তাদের মিশন শুরু করবে ৪ ডিসেম্বর মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। দেশের মাটিতে ইমার্জিং টিম এশিয়া কাপে পাকিস্তানের কাছে ফাইনালে বড় ব্যবধানেই হেরে যায় বাংলাদেশ। ৭৭ রানের সেই হারের আগে অবশ্য প্রথম রাউন্ডের চার ম্যাচেই জিতেছিল স্বাগতিকরা। দল শিরোপা জিততে ব্যর্থ হলেও সিনিয়র সদস্য সৌম্য সরকার ব্যাট হাতে ছিলেন দারুণ উজ্জ্বল। ৬১ গড় এবং ১০৮.৯২ স্ট্রাইক রেটে ২৪৪ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। বল হাতে নেন ৫ উইকেট। হন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়। এসএ গেমস আর ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফরম্যাট একই থাকায় সিনিয়র কোটায় দলের প্রাণভ্রমরা হয়ে যাচ্ছেন সৌম্য। সিনিয়র কোটায় অপর দুই ক্রিকেটার ইয়াসির আলী চৌধুরী এবং মাহাদী হাসান। ইমার্জিং দল থেকে বাদ পড়েছেন চোট পাওয়া স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব এবং পেসার আবু হায়দার রনি। নতুন এসেছেন জাতীয় দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান এবং পেসার কাজী মানিক।
এই দলটিকে নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী শ্রীলঙ্কান কোচ চম্পকা রামানায়েকে। গতকাল দেশ রূপান্তরকে বললেন তার লক্ষ্যের কথা, ‘ফাইনালে যাওয়ার ভালো সুযোগ আমাদের আছে। সেটাই প্রথম টার্গেট। সেখানে যেই প্রতিপক্ষ হোক, তাদের হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। যেহেতু ইমার্জিং টিমটাই আমরা নিয়ে যাচ্ছি, সেহেতু একটা ভালো দল পেয়েছি। আমি দল নিয়ে খুব আত্মবিশ্বাসী।’ ভারতের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ভাবাচ্ছে না এই লঙ্কানকে, ‘ভারত খেলবে কী খেলবে তা আমার জানা নেই। তবে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের মতো দল খেলবে। তারাও অনেক শক্তিশালী।’ মিরপুরে ইমার্জিং কাপ ফাইনালে শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলার পরও পাকিস্তানের কাছে ফাইনালের হারের জন্য শিষ্যদের দায় দিতে রাজি নন চম্পকা, ‘প্রতিটি দলই আসলে জিততে চায়। চারটি লিগ ম্যাচের সবকিছু জেতার পর ফাইনালে গিয়ে আমরা ততটা ভালো খেলতে পারিনি। পাকিস্তান টার্গেটটা দিয়েছিল বড়। যেটা আমরা ছুঁতে পারিনি। তারপরও দল ফাইনালে যাওয়ায় আমি খুশি। এটা মনে রাখতে হবে তারা সবাই তরুণ। তারা ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। তারা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমরা ফাইনালটা হেরে গেছি।’ ২০১০ সালে জেতা স্বর্ণপদক থেকে কোনো অনুপ্রেরণা খুঁজতে চান না এই কোচ। বরং বর্তমান দলের তরুণদের ওপর রাখছেন পূর্ণ আস্থা, ‘সেটা ৯ বছর আগের ঘটনা। এখন সময়, ক্রিকেটার, পরিস্থিতি সব বদলে গেছে। আমার দলটা অনেক শক্তিশালী। তাদের সামর্থ্য আছে এবারও সেরা হওয়ার।’ দলের ম্যানেজার এবং নির্বাচক কমিটির সদস্য হাবিবুল বাশারও মনে করেন সেরা সাফল্যের লক্ষ্য নিয়েই নেপাল যাবে দল, ‘এরা সবাই খেলার মধ্যেই ছিল। তাই আলাদা করে অনুশীলনের প্রয়োজন নেই। আমি মনে করি এই দলের লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বর্ণপদক। কারণ তাদের সেটা জেতার সামর্থ্য আছে।’
বাংলাদেশ দল : সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাঈম শেখ, আফিফ হোসেন, জাকির হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, ইয়াসির আলি, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, সুমন খান, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, তানভীর ইসলাম, মানিক খান, মেহেদী হাসান, হাসান মাহমুদ।
সম্ভাবনা আছে মেয়েদেরও
এবারই প্রথম এসএ গেমসে জায়গা পেয়েছে মেয়েদের ক্রিকেট। বাংলাদেশের মেয়েদের দলটিকে নিয়েও আশা আছে অনেক। যেহেতু ভারত এবং পাকিস্তান তাদের ইমার্জিং টিম পাঠাচ্ছে, এখানেও সোনার পদকের সম্ভাবনা থাকবে বাংলাদেশের। দলটির ম্যানেজার এবং সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম বলেন, ‘আমরা তো অবশ্য স্বর্ণপদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই যাব। তবে আমাদের ব্যাটিংয়ে খানিকটা দুর্বলতা আছে। বিশেষ করে রুমানা চোট পাওয়ায় ব্যাটিংয়ে শক্তি একটু কমেছে। তারপরও ভারত ও পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠানোয় আমি ভালো সম্ভাবনা দেখছি।’