বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পিডিবির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শুরু

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডর (পিডিবি) পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শুরু হয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি চলবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) অডিটোরিয়ামে শুনানির প্রথম দিনে পিডিবির পক্ষ থেকে দাম প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির মহা ব্যবস্থাপক কাউসার আমীর আলী। মূল্যায়ন কমিটির পক্ষে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন বিইআরসির উপপরিচালক (ট্যারিফ) মো. কামরুজ্জামান।

প্রসঙ্গত, পিডিবি পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মূল্যায়ন কমিটি মনে করছে, ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন। অন্যদিকে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ক্যাব) ভোক্তা প্রতিনিধিরা দাম বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

শুনানিতে বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান, আব্দুল আজিজ, রহমান মুরশেদ ও মাহমুদউল হক ভূঁইয়া, ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিজিএমইএর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বিকেএমইএর সজিব হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সিপিবির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে বিদ্যুতের সঞ্চালন মাশুল ৫০ দশমিক ৭৭ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় পিডিবি। সংস্থাটি বলছে, অন্যথায় সম্ভাব্য ক্ষতির শিকার হতে পারে তারা। এতে সরকার ও দাতা সংস্থাগুলোর ঋণ ও সুদের বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়মিতভাবে পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। ফলে অদূর ভবিষ্যতে পিজিসিবির (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ) ঋণ পরিশোধে অক্ষম একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিইআরসি কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি এর বিপরীতে ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

মাশুল বাড়ানোর বিরোধিতা করে ক্যাব উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, ‘বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসরকারি খাতে সঞ্চালন ব্যবস্থা ছেড়ে দিতে চাইছে সরকার। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি কেন্দ্রের মতোই তাদের জন্যও ক্যাপাসিটি পেমেন্ট রাখা হচ্ছে। এটি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ভালো ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘পিজিসিবি কি সারাদেশে সঞ্চালনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ? না হলে কেন এই উদ্যোগ? একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে কেন সঞ্চালন চার্জ বাড়াতে চাইবে? তাদের কোনও লোকসান নেই। তাহলে তাদের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য তারা ঋণ নিচ্ছে। সেই ঋণ তারা সুদসহ পরিশোধ করবে। নিজেরা আরও লাভবান হবে। এই সুদ পরিশোধের দায়িত্ব কি জনগণের? তাহলে সঞ্চালন চার্জ বাড়িয়ে জনগণের ঘাড়ে দেওয়া খুবই অযৌক্তিক এটি বিষয় হবে।

মূল্যায়ন কমিটি বলছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে পিজিসিবির নিট রাজস্ব চাহিদা প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় শূন্য দশমিক ২৯৮০ টাকা। বিদ্যমান গড় সঞ্চালন মূল্যহার প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় শূন্য দশমিক ২৭৮৭ টাকা। রাজস্ব চাহিদা মূল্যায়ন করে কারিগরি কমিটি মনে করছে, ২০২০ সালে পিজিসিবির সঞ্চালন চার্জ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় শূন্য দশমিক ০১৯৩ টাকা বা ৬ দশমিক ৯২ ভাগ বাড়ানো যেতে পারে।