প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বছর তিনেক আগে চালু হয় উবার, পাঠাও, ওভাইসহ অ্যাপসভিক্তিক রাইড শেয়ারিং সেবা। শুরুর দিকে এসব রাইড শেয়ারিংয়ের সেবার মান ভালো থাকলেও পরবর্তী সময়ে দেখা যায় নৈরাজ্য ও অনিয়ম। গ্রাহকদের অভিযোগ, সামান্য জ্যাম পড়লে ভাড়া বেশি চাওয়া, রাইড বাতিল করা, বিশেষ দিনে অ্যাপে না যেতে চাওয়ায় তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।
চালকরা জানান, তাদের প্রতি ট্রিপে শতকরা ২০ টাকা দিতে হয় অ্যাপস কর্তৃপক্ষকে। যার কারণে মাঝে মাঝে রাইডার বিনা অ্যাপে যাওয়ার সুযোগ নেন তারা। এ ড়্গেত্রে গ্রাহকদের দায়ও কম নয়; তারা অসচেতনভাবে অ্যাপে কল না করে রাইডারদের কাছে রাইড শেয়ার করেন।
২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবা ‘উবার’ বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে। ভারতে বসে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। এর বাংলাদেশের গ্রাহকদের অভিযোগ করতে হয় ভারতে। সেখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করায় সমস্যার সঠিক সমাধান হয় না বলে দাবি গ্রাহকদের। একই বছর যাত্রা শুরু করে দেশীয় রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পাঠাও ও সহজ।
বিআরটিএর তথ্যমতে, দেশে ২০টির বেশি রাইড শেয়ারিং কোম্পানি থাকলেও এখন পর্যন্ত তাদের তালিকাভুক্ত হয়েছে ১২টি। পাশাপাশি এই সেক্টরের জন্য নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রম্নয়ারি নীতিমালা কার্যকরের গেজেট প্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর করা যায়নি।
আরিফ নামের এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী বলেন, ‘আমি রাইড সার্ভিসের শুরু থেকে এ অ্যাপে যাত্রা করি।
তবে ইদানীং বেশ অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। রাইডাররা তাদের পছন্দমতো রাইড দিচ্ছেন; জ্যাম থাকলে সেদিক দিয়ে যেতে চাচ্ছেন না। এ ছাড়া বিশেষ দিনে অ্যাপে যেতে চান না।’ খামারবাড়ীতে হাবিব নামের এক পাঠাওচালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীতে রাইড শেয়ার করছি। এর আগে তারা আমাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি নানা নিয়মকানুন শেখায়। এ অনুযায়ী রাইড দিচ্ছি। এ ছাড়া আমি সব সময় অ্যাপে যাই।’
জানতে চাইলে পাঠাও অ্যাপসের কাস্টমার কেয়ারের রিপ্রেজেনটেটিভ আশিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাঠাও অ্যাপস চালকদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে তেমন কোনো গুরুতর অভিযোগ আসেনি।
আমরা চালকের কাগজপত্র যাচাই করেই অ্যাপস চালানোর অনুমতি দিই।’ তিনি বলেন, ‘চালকদের প্রতি আমাদের বিশেষ নির্দেশনা আছে– তারা যেন বিনা অ্যাপে রাইড শেয়ার না করেন। এতে চালক-যাত্রী উভয়েরই ক্ষতি।’ সহজ রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের মার্কেটিং হেড মোহাইমিন সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা সেবা দেওয়ার ড়্গেত্রে গ্রাহকদের রেটিংয়ের অনেক মূল্যায়ন করে থাকি। যখন দেখি একজন রাইডারের রেটিংয়ের মান কম, তখন তাকে কাউনসেলিং করি। এতে কাজ না হলে তাকে সাসপেন্ড করি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে গ্রাহক সেবাই আগে। সব সময় ভালো মানের সেবা দিতে চেষ্টা করি।’