আমনের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। তারপরও মন ভালো নেই কৃষকের। তাদের দাবি, গত কয়েক বছরের অব্যাহত লোকসানে তারা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ধারা চলমান থাকলে এক সময় তারা ধান আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

মাঠের পর মাঠ সোনালি পাকা ধানে ভরপুর। হেমন্তের মৃদু বাতাসে পাকা ধানের শীষ দুলছে। যেদিকে চোখ যায়, এমন মনোমুগ্ধ আর নয়নাভিরাম দৃশ্যই চোখে পড়ে ভৈরবের মাঠে মাঠে। যারা দেহের ঘাম ঝরিয়ে সোনালি এইসব ধানের ফলন ফলিয়েছেন তাদের চোখে মুগ্ধতা নেই। সুখের লেশমাত্র আবেশও নেই মনে।

তাদের চোখে আছে কেবল ক্রমাগত লোকসানের আতঙ্ক আর হতাশা। ঘামযুক্ত কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা। কারণ এক মণ ধান ফলনে যেখানে তাদের খরচ পড়ে যায় ৬শ থেকে ৭শ টাকা, সেখানে ধানের ভরমৌসুমে দর দাঁড়ায় ৪শ থেকে ৫শ টাকা। অথচ ধান রোপা এবং কাটার একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি গুনতে হয় ৫শ থেকে ৬শ টাকা। দুই বেলা তাদের খাবারের বাড়তি চাপ তো থাকেই। এমন পরিস্থিতিতে তারা মৌসুমের শুরুতে ধানের বাজারদর এক হাজার টাকা দাবি করছেন।

উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রামের কৃষক আলীমুদ্দিন জানান, তিনি গত বছর ৭ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করে লোকসান গুনেছেন। এবারও ৭ বিঘা জমির আমনের আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। কিন্তু সঠিক মূল্য না পেলে বিপদে পড়ে যাবেন। কারণ গত মৌসুমের ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারেননি এখনও।

একই এলাকার কৃষক শফিউল্লাহ জানান, তিনি সাড়ে দিন বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। ঋণের দায়ে ধান কাটার সাথে সাথেই বিক্রি করতে হবে।

উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ছনছাড়া গ্রামের কৃষক কামাল মিয়া, খুরশিদ মিয়া ও আব্দুল হক মিয়া জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে। ধানের বাজার দরটা মণপ্রতি ৯শ থেকে এক হাজার পেলে তারা লাভবান হবেন। নয়তো বা গত কয়েক বছরের মতো এবারও লোকসানে পড়তে হবে।

ভৈরব উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়. চলতি মৌসুমে ভৈরবে দুই হাজার ১শ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে দুই হাজার ২৫০ হেক্টর। আর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। এতে করে কৃষকরাও বেশ খুশি।

বর্তমানে ভৈরবে ধনের বাজার দর ৭শ’ টাকা উল্লেখ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম শরীফ খান জানান, এই দরে ধান বিক্রি করলে কৃষক লোকসানে পড়বে না। তবে ধানের দর ৫শ টাকার নিচে হলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ভৈরবে সরকারী খাদ্য গুদামে ২৬ টাকা কেজি দরে ৩৩৬ মেট্রিক টন ধান কেনার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছে।