আমাজনের আগুনে ঘি ঢেলেছেন ডিকাপ্রিও: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

আমাজনের দাবানলের জন্য হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিকাপ্রিওকে দায়ী করলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। যদিও এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

শুক্রবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জানান, ডিকাপ্রিও পরিচালিত অলাভজনক সংস্থা এমন কিছু সংস্থাকে অনুদান দিয়েছে যারা রেইনফরেস্টে আগুন দেওয়ার জন্য দায়ী। তারা আগুন লাগিয়ে কিছু ছবি তুলে প্রচারণা চালিয়েছে।

বলেন, “ডিকাপ্রিও দারুণ লোক, তাই না? টাকা দিয়ে আমাজনকে পুড়িয়ে দিলো।”

জুলাই ও আগস্টে দাবানলের কারণে আমাজনের বড় অংশ পুড়ে যায়। তখন পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য ৫০ লাখ ডলার অনুদানের ঘোষণা দেন অভিনেতা।

এরই মধ্যে বেশ কয়েক স্বেচ্ছাসেবী অগ্নিনির্বাপণকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রাজিলের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের অভিযোগ অলাভজনক সংস্থা থেকে সাহায্য পাওয়ার জন্য তারা আগুন দেন বনে।

বলসোনারো সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন, স্বেচ্ছাসেবকদের ছবির ভিত্তিতে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) থেকে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে। অবশ্য সংস্থাটি হলিউড তারকা থেকে অনুদান নেওয়া বা এই ধরনের ছবির কথা অস্বীকার করেছে।

এ দিকে লিওনার্দো ডিকাপ্রিও জানান, ব্রাজিলের জনগণ যেভাবে তাদের প্রকৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করছেন তা প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু তহবিল পাওয়া যোগ্য হলেও সরকারের নির্দেশ করা সংস্থাকে অনুদান দেয়নি তারা।

বিজ্ঞানী ও অ্যাকটিভিস্টরা দাবি করছেন, কৃষিকাজের জন্য বনে আগুন দিয়েছিলেন কৃষক ও খামারিরা। বলসোনারোর উন্নয়ননীতি তাদের এই কাজে উৎসাহ দিচ্ছে।

পরিবেশ নিয়ে অতীতে অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন লিওনার্দো ডিকাপ্রিও। তহবিল সংগ্রহের পাশাপাশি একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বক্তৃতা দিয়েছেন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য ফোরামে।

কয়েক মাস আগে ভারাইটির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দাবানলে পুড়তে থাকা আমাজন বন রক্ষার জন্য তহবিল তৈরিতে এই উদ্যোগ নিয়েছেন ডিকাপ্রিও। স্থানীয় সহযোগী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমর্থনে তার সংস্থা কাজ করছে। স্পর্শকাতর পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছে এমন পাঁচটি স্থানীয় সংস্থাকে এই তহবিল দেওয়া হবে।

ব্রাজিলের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চের (আইএনপিই) বরাত দিয়ে ওই তহবিলের ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে, আমাজনে ৭২ হাজারের বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যা ২০১৮ সালের ৪০ হাজারের চেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। মূলত পশু খামার ও শস্য উৎপাদনের জন্য বন ধ্বংস করা হচ্ছে এই অঞ্চলে।

ইতিমধ্যে একাধিক সেলিব্রিটি ‘পৃথিবীর ফুসফুস’-খ্যাত আমাজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন। ডিকাপ্রিও এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বলেন, আমাজন ছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ঠেকানো যাবে না।

লরেন পাওয়েল জবস, ব্রায়ান সেথের সঙ্গে মিলে জুলাইয়ে আর্থ অ্যালায়েন্সের ঘোষণা দেন অস্কারজয়ী লিওনার্দো ডিকাপ্রিও। জলবায়ু পরিবর্তনকে সামনে রেখে এই সংস্থাটির নেতৃত্বে আছে বিজ্ঞানী ও সংরক্ষণবাদীদের নিয়ে একটি দল। যারা বাস্তুসংস্থান ও বন্য পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু সংক্রান্ত ন্যায় বিচার নিশ্চিত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমর্থন ও আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন।