পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে শুরু হচ্ছে রোডওয়ে স্লাবের কর্মযজ্ঞ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্ত শনিবার সকালে অস্থায়ীভাবে পদ্মা সেতুর ৫-এফ নামে একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর এ স্প্যানটি বসানো হয়। স্থায়ীভাবে সেতুর ৩০ ও ৩১ নম্বর পিলারের ওপর এ স্প্যানটি বসানো হবে।

এদিকে, পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে শিগগির ১৩ থেকে ১৭ নম্বর পিলারের চারটি স্প্যানে রোডওয়ে সস্নাব বসানোর কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতুর সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর।

তিনি জানান, সকাল ৯টার দিকে ৫-এফ স্প্যানটি নিয়ে ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে রওনা হয়। ১০টার দিকে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি নিয়ে নির্ধারিত পিলারের কাছে পৌঁছায় ভাসমান ক্রেন। এরপর ১২টার দিকে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যানটি বসাতে সক্ষম হন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

তিনি আরও জানান, মাওয়া প্রান্তের ৩-এ, ৩-বি, ৩-সি, ৩-ডি নামে চারটি স্প্যানে শিগগির রোডওয়ে সস্নাব বসানোর কাজ শুরু হবে। রোডওয়ে সস্নাব বসাতে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর বসানো অস্থায়ী স্প্যানটি ব্যবহার করা হবে। পরে অস্থায়ী স্প্যানটি ৩০ ও ৩১ নম্বর পিলারের ওপর স্থায়ীভাবে বসানো হবে। পদ্মা সেতুতে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে সস্নাব বসানো হবে। এর মধ্যে বসানো হয়েছে ১ হাজার ৭০০টি।

পদ্মা সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।