যৌতুকের দাবিতে বউ পেটানোর মামলায় গ্রেপ্তার সচিবের জামিন

৭০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পেটানোর মামলায় গ্রেপ্তার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ডা. মো. জাকির হোসেন জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।

রবিবার রমনা থানায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি হিসাবে জাকির হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করার পর আদালত তাকে জামিন দেন।

পুলিশের রমনা জোনের সিনিয়র সহাকারী কমিশনার এস এম শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, যৌতুকের দাবিতে মারধরের মামলায় জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে শুনেছি, তিনি জামিন পেয়েছেন।

শনিবার রাতে রাজধানীর রমনা থানায় জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন তার স্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত ডা. ফাতেমা জাহান বারী। এর আগে জাকিরের হাতে মারধরের শিকার হলে ডা. ফাতেমা জাহান বারী বাঁচার জন্য জাতীয় সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করে রক্ষা পান। রমনা থানা-পুলিশ বেইলি রোডের বাসায় গিয়ে ফাতেমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এরপর রাতে চিকিৎসা নিয়ে স্বামী জাকিরের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. ফাতেমা জাহান বারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার মানসিক অবস্থা ভালো নেই। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ডা. মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর বিয়ে হয় ডা. ফাতেমা জাহানের ।

মামলার বিবরণীতে ফাতেমা বলেন, বিয়ের পর আমি আমার স্বামীর সাথে সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস শুরু করি। পুলিশ হাসপাতালে চাকরিরত অবস্থায় দুইবার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাই। আমার প্রাপ্ত মিশনের টাকার প্রতি তার লোভ জন্মে। সেই সূত্রে জাকির আমার কাছে ৭০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমি যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে সে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ডা. জাকির চলতি বছরের ২ আগস্ট রাত ৩টার দিকে আমার কাছে আবারও যৌতুক হিসাবে টাকা দাবি করেন। আমি যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারে এবং দা-বটি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে আমার জীবন শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

একপর্যায়ে সে আরও উত্তেজিত হয়ে আমার বাম চোখের আই ভ্রুর ওপরে প্রচণ্ড জোরে ঘুষি মারে। এতে আই ভ্রুর ওপরে রক্তাক্ত জখম হয়। আমি জখম অবস্থায় সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেই। চিকিৎসক আমার জখমস্থলে ৮টি কসমেটিক সেলাই দেন। ওই ঘটনায় আমার স্বামী আমাকে মিথ্যা বলতে বাধ্য করেন যে, আমি রান্না ঘরের কেবিনেটের দরজা খুলতে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি।

ডা. ফাতেমা আরও উল্লেখ করেন, গত ৩০ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাকির আবারও ৭০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে প্রচণ্ড মারধর করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি, আমাকে বিয়ের আগে জাকির হোসেন আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন। তার আগের দুই স্ত্রীও তার হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে তারাও তাকে ডিভোর্স দিয়ে ছেড়ে যান।