সিগারেট খেতে বাধা দেওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগে আমির হোসেন (৫০) নামের এক কর্মচারীকে ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর ইব্রাহীমকে (১৮) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
রবিবার ভোরে এই খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত আমির হোসেনের বাড়ি শরিয়তপুর জাজিরা উপজেলার পাচুখাকান্দি গ্রামে। থাকত খিলক্ষেতে টেম্পো স্ট্যান্ড। ৪ সন্তানের জনক ছিলেন তিনি। ইব্রাহিম ঢাকা মেডিকেলের পিডব্লিউডির সাবেক কর্মচারী মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শাহবাগ থানা-পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান জানান, আটক ইব্রাহীমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে বিভিন্ন সময় আমিরের সামনে ধূমপান করত সে। এ বিষয় নিয়ে ইব্রাহিমের মায়ের কাছেও অভিযোগ করেছিল আমির। কয়েকবার অভিযোগ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমিরকে হত্যা করেছে সে।
তিনি আরও জানান, কয়েক দিন ধরেই সুযোগ খুঁজছিল ইব্রাহিম। রোববার সুযোগ পেয়ে ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে আমিরের মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করে সে। নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছে। আটক ইব্রাহীমকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আর ক্রিকেট ব্যাটটিও জব্দ করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনেরা জানায়, রবিবার সকালে আমির হোসেন ফজরের নামাজ পড়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইব্রাহীম নামের এক বখাটে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে তাকে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করে। এতে সে অচেতন হয়ে পড়লে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা সকাল ৮টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে জানান, নিহতের মাথার পেছনে একটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যেটি ভারী কোনো বস্তু দিয়া আঘাত করার কারণে হয়েছে। আর এই আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহতের ছেলে মারুফ হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইব্রাহীম প্রকাশ্যে সিগারেট খেত, বড়দের সম্মান করত না। এ জন্য বাবা ১০ থেকে ১৫ দিন আগে ইব্রাহীমের মার কাছে অভিযোগ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয় ইব্রাহীম। এর জের ধরেই রবিবার অতর্কিত ভাবে হামলা করে বাবাকে হত্যা করেছে।’
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন জানান, নিহত আমির হাসপাতালের বহির্বিভাগের ক্যানসার বিভাগে ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সকালে ক্যানসার বিভাগের সামনে কয়েকজন কিশোর মিলে ক্রিকেট খেলছিল। তখন তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এর কিছুক্ষণ পরে আমির বহির্বিভাগের গেটের সামনে গেলে সেখানে পেছন থেকে ইব্রাহীম নামের এক কিশোর তাকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তখন ইব্রাহিমকে ধরে ফেলে এবং শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করে। আমিরকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।