‘টিউলিপ’র সঙ্গে চুক্তি ছিল দেশের স্বার্থবিরোধী: বিএনপি

বিএনপি সরকারের সময়ে ডাচ কোম্পানি ‘টিউলিপ কম্পিউটারস’র সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ব্যাখ্যা দিয়ে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘টিউলিপ কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তিটি ছিল দুর্নীতি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির একটি খারাপ নজির’।

সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ আমলে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি বাংলাদেশের ‘স্বার্থবিরোধী’ হওয়ায় বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে তা বাতিল করেছিল। এর পেছনে তিনটি কারণ ছিল। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের তুলনায় দ্বিগুণ মূল্যে কম্পিউটার কেনার জন্য এই চুক্তি করা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, চুক্তির শর্তাবলির সবই ছিল ডাচ কোম্পানির পক্ষে। তৃতীয়ত, চুক্তির শর্তানুযায়ী নেদারল্যান্ডস অনুদানের প্রায় ৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশকে দেয়নি’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকের নামে ওই কোম্পানির নাম হওয়ায় প্রতিহিংসার বশে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ওই চুক্তি বাতিল করেছিল। আর এর কারণে বাংলাদেশকে ৩২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল’।

এর সমালোচনা করে বিএনপি নেতা রিজভী দাবি করেন, ‘ওই চুক্তি বাতিলের পর বিএনপি আমলে অন্য দেশ থেকে প্রায় অর্ধেক দামে কম্পিউটার আমদানি করা হয়েছিল। চুক্তি বাতিলের কারণে বিএনপি আমলে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হয়নি। চুক্তি বাতিলের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের অভ্যন্তরীণ আদালতের রায় অনুযায়ী বিএনপি সরকার এবং পরবর্তীতে জরুরি অবস্থার সরকার, কেউ ক্ষতিপূরণ দেয়নি’।

তিনি আরো বলেন, ‘সিদ্ধান্ত ছিল, আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আইনি লড়াই ছেড়ে দিয়ে টিউলিপ কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দেয় রাষ্ট্রীয় অর্থে। অথচ বাংলাদেশ ডাচ সরকারের কাছ থেকে একটি টাকাও পায়নি, একটি কম্পিউটারও নয়’।

রিজভী বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন হলো, প্রধানমন্ত্রীর এই গালগল্পের সূত্র কী? তাকে কে বলেছে বেগম খালেদা জিয়া নামের মিলের কারণে চুক্তি বাতিল করেছিলেন? এই আষাঢ়ে গল্প ফেঁদে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে নিজেদের অবৈধ সত্তা এবং মহাসমারোহে দুর্নীতি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিকে আড়াল করতে চান। ২০১১ সালে নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আলী সরকার ওই কোম্পানির লোকদের ২ মিলিয়ন ১৩০ হাজার ইউরো বা ২৩ কোটি টাকা পৌঁছে দেন কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে। জরিমানার নগদ টাকা ছাড়াও মামলা চালানোর খরচ ও অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নেদারল্যান্ডস সফরে সরকারি তহবিল থেকে আরো খরচ হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ কোটি নগদ টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে’।

রিজভী দাবি করেন, ‘‘শেখ হাসিনার ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারের সময়কার ইআরডি সচিব মসিউর রহমান (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা) ‘গোপনে গলদপূর্ণ’ ওই চুক্তি করেছিলেন। তৎকালীন মন্ত্রিসভা কমিটি কঠিন শর্ত মেনে ওই চুক্তিটি করার জন্য মসিউর রহমানকে দায়ী করেছিল’’।

তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালের ৭ জুন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির প্রধান হিসাবে বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, তারা আমাদেরকে টাকা দেয়নি, কম্পিউটারও দেয়নি। তবে আমরা কেন তাদের দেশের আদালতের রায় অনুযায়ী তাদেরকে ক্ষতিপূরণের টাকা দেব’?

টিউলিপের সঙ্গে চুক্তি বাতিল নিয়ে সমালোচনার জবাবে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিফোন শিল্প সংস্থার দোয়েল কম্পিউটার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এ বিএনপি নেতা।

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রকল্প মানেই দুর্নীতির মহাধুমধাম। আপনাদের মনে আছে তারা (সরকার) ২০১২ সালে একবার দোয়েল কম্পিউটার নামে একটি প্রকল্প উদ্বোধন করেছিল। সেই দোয়েল কোথায় উড়ে গেছে, তা জনগণ কিছুই জানে না’।