চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে মারধরের অভিযোগ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে ইউছুফ নামে এক ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কাউন্সিলর আলি হোসেন আলা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার রাত ৮টার দিকে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আদমজী ইপিজেডের ভেতর টিএনএস বাটন কারখানার সামনে থেকে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনটি মোটরসাইকেল আরোহী পনির, শাহজাহান, হারুন ও নজরুলসহ ৬ জন মিলে ইউসুফকে তুলে নিয়ে যায় কদমতলী পুল এলাকায় নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলি হোসেন আলার কার্যালয়ে।

সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা আটক রাখার পর কাউন্সিলর আলা এসে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে টিএনএস বাটন কারখানায় জমা দেওয়া কোটেশন প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য মারধর ও ইপিজেডে ব্যবসা করতে হলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

ইউসুফ জানান, আদমজী ইপিজেডে আকাশ ইন্টারপ্রাজের লাইসেন্স দিয়ে ব্যবসা করছেন। দীর্ঘ দিন ধরে লিংটাস কারখানায় খাবার সরবরাহ করে আসছেন। সম্প্রতি টিএনএস বাটন কারখানার সাথে ব্যবসা করার জন্য কোটেশন জমা দেন। কোটেশন জমা দেয়ার কারণে কাউন্সিলর আলি হোসেন আলা তার লোকজন দিয়ে ধরে নিয়ে মারধর ও চাঁদা দাবি করেন। 

খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সাত্তার ফোর্স নিয়ে কাউন্সিলর আলার কার্যালয়ে পৌঁছার আগেই ইউসুফকে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানান এসআই সাত্তার।

অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলি হোসেন আলা চাঁদা দাবির অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ইউসুফকে তুলে নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমি টিএনএস বাটন কারখানায় ব্যবসা করে আসছি। কয়েক দিন পূর্বে ইউছুফ এই কারখানায় ব্যবসা করার জন্য কোটেশন দিয়েছে। সে আমার ব্যবসা নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তাই সমঝোতা করার জন্য তাকে আনা হয়েছিল। সে আর কারখানায় যাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ছেড়ে দিয়েছি। সে আসলে মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. কামরুল ফারুক জানান, এক ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।