দিনাজপুরে ১০৩ ইউনিয়নের ৭১টিতে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই

দিনাজপুরে ১৩ উপজেলার ১০৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৭১টি ইউনিয়নেই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এ অজুহাতেই  ইউনিয়ন পর্যায়ে পদায়ন করা চিকিৎসকরা যাচ্ছেন না ইউনিয়নে। এতে করে গ্রামের অধিবাসীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন; শিকার হচ্ছেন অপচিকিৎসার।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে প্রত্যন্ত এলাকায় জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এসব উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। পরে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভেঙে একাধিক জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নতুন ইউনিয়নগুলোতে কোনো উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়নি।

প্রতিটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন সাব-কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও একজন এমএলএসএস নিযুক্ত থাকেন। সেই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একজন পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা সেখানে গিয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করেন। এসব উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে পদায়ন পাওয়া মেডিকেল অফিসার ও সাব কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররা সপ্তাহে ছয় দিন চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। সেই সঙ্গে মেডিকেল অফিসারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ফার্মাসিস্ট রোগীদের বিনা মূল্যের ওষুধ সরবরাহ করেন।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি, বিরলের ১১টির মধ্যে ৯টি, বীরগঞ্জের ১১টির মধ্যে ৯টি, খানসামার ৬টির মধ্যে ৪টি, চিরিরবন্দরের ১২টির মধ্যে ১০টি, পার্বতীপুরের ১০টির মধ্যে ২টি, ফুলবাড়ীর ৭টির মধ্যে ৫টি, নবাবগঞ্জের ৯টির মধ্যে ৬টি, ঘোড়াঘাটের ৪টির মধ্যে ১টি ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। এ ছাড়া বিরামপুর উপজেলার ৭টি, হাকিমপুরের ৩টি, বোচাগঞ্জের ৬টি এবং কাহারোলের ৬টি ইউনিয়নের ১টিতেও উপস্বাস্থকেন্দ্র নেই।

বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাসে গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি হয়। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ ভোগী অপচিকিৎসার শিকার হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে মেডিকেল অফিসারদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে অপচিকিৎসার হার কমে যেত।

কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিউল আজম জানান, তার উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১টিতেও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। প্রতিদিন গড়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪০০ থেকে ৪৫০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নেয়। রোগীদের চাপে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলে এ সমস্যা হতো না।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন আবদুল কুদ্দুস জানান, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৩০টি পদ ফাঁকা রয়েছে। ৮ ডিসেম্বর এসব পদের বিপরীতে প্রায় ১২০ জন চিকিৎসক যোগ দেবেন। নতুন যোগ দেওয়া চিকিৎসকদের প্রতিটি ইউনিয়নের সহকারী সার্জন পদের বিপরীতে পদায়ন করা হয়। কিন্তু যেসব ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই, সেসব ইউনিয়নে পদায়ন হওয়া চিকিৎসকরা যান না।

শুধু উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা না দেওয়ার বিরোধিতা করে সিভিল সার্জন আবদুল কুদ্দুস জানান, এখন প্রতিটি ইউনিয়ন কমপ্লেক্স অনেক উন্নত মানের। সেখানে অনেক কক্ষই ফাঁকা পড়ে থাকে। এ ছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে গিয়েও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বসে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদায়ন হওয়া চিকিৎসকের উপস্থিতির বিষয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।