আশা ছিল দেশকে স্প্রিন্ট থেকে পদক এনে দেওয়ার। সেই আশার সমাপ্তি এতটা করুণ হবে কে ভেবেছিল। পিছিয়ে পড়া অ্যাথলেটিক্সে আশার বাতিঘর হয়েই আবির্ভূত হয়েছিলেন ৪০০ মিটারে দ্যুতি ছড়ানো জহির রায়হান। কাল সকালে দশরথ রঙ্গশালায় ব্যক্তিগত হিটে দ্বিতীয় হন। সবার মধ্যে তৃতীয় হয়ে যান ফাইনালে। কিন্তু হিট শেষ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন জহির। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪,৬০০ ফুট উচ্চতায় দৌড়িয়ে রীতিমতো শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায় তার। একই অবস্থা হয় এই ইভেন্টে সর্বশেষ প্রতিযোগী হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করা আবু তালেবেরও। অগত্যা দু’জনকেই নিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে। অ্যাথলেটিক্স ভেন্যুর পাশেই ব্লুক্স হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় এ দুজনকে ফাইনালে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেননি চিকিৎসকরা। এভাবেই জহিরদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।
আগের দিন কারাতেকার শ্রীলঙ্কান প্রতিপক্ষের আঘাতে হাসপাতালে আসতে হয়েছিল দেশকে একটি স্বর্ণপদক এনে দেওয়া মারজান আক্তার প্রিয়াকে। তার চোট দেশকে আরেকটি স্বর্ণ বঞ্চিত করে। তারপরও আগের স্বর্ণ থেকে সান্ত¡না খুঁজে নিতে পারছেন প্রিয়া। জহিরের জন্য তো রইল না কিছুই। ফাইনালে নিজেকে প্রমাণের সুযোগটাই যে পেলেন না তিনি। অনাকাক্সিক্ষত অসুস্থতায় নিজের প্রিয় ইভেন্টের ফাইনালে খেলা হলো না তার। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পবন রাওয়াল বলেন, ‘জহিরের পালস রেট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। এ অবস্থায় আমরা তাকে ফাইনালে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিতে পারছি না। যদি তিনি আবার দৌড়ান, তাহলে তার পালস রেট আরও অনেক বেড়ে যাবে। তাতে মাইল্ড অ্যাটাকের শঙ্কা থাকবে।’ চিকিৎসকের এই রায় শুনে হাসপাতালের বিছানায় হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন জহির। তার অবস্থা দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তার কোচ আব্দুল্লাহ আল কাফিও। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওর পদক জয়ের ভালো সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু দৌড়ানো শেষ করেই শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করে। এ অবস্থায় আমরাও তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। তবে আফসোস হচ্ছে, ও দৌড়ালে ঠিকই একটা পদক এনে দিতে পারত।’ বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু জানান, জহির-তালেবকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে এবং তারা দুজনই হোটেলের রুমেও চলে গেছে। গতকাল পূর্ণ বিশ্রামে রাখার নির্দেশ ছিল চিকিৎসকদের। আজ বিকেলে দলের চিকিৎসক তাদের ফিটনেস সার্টিফিকেট দিলে তাদের অন্য ইভেন্টে খেলানো হবে বলে জানান আব্দুর রকিব মন্টু, ‘আমরা আশাবাদী জহির-তালেব শুক্রবার (আজ) আরেকটি ইভেন্ট ৪ গুণিতক ৪০০ মিটার এবং শনিবার ৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলেতে অংশ নিতে পারবে।’