বব উইলিস আমার খুবই বিশ্বস্ত ও সহায়ক বন্ধু ছিল। প্রথমত একজন খেলোয়াড় হিসেবে, তার সহ-অধিনায়ক এবং পরে অধিনায়ক হিসেবে তার সঙ্গে সময়গুলো আমি খুব উপভোগ করেছি। শুধু তাই নয়, আমরা যখন ধারাভাষ্যকার হিসেবে একসঙ্গে ছিলাম তখনকার দিনগুলোও খুব আনন্দের ছিল। একজন ক্রিকেটার হিসেবে (বব) সেরা একটা মানদ- তৈরি করে গেছে। ইংল্যান্ডের জার্সিতে কখনই সে তার সর্বোচ্চটা দেওয়া থেকে পিছপা হয়নি। কারও আত্মবিশ্বাসে যদি কখনো কমতি দেখা যেত বব সবসময় তার পাশে ছিল। এমনকি গত ৩০ বছরে একজন ধারাভাষ্যকার হিসেবে আধুনিক ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কাজটিও করে এসেছে।
বব কেমন বোলার ছিল? ৭০ দশকের দিকের সব ব্যাটসম্যানই এই প্রশ্নটা করুন, তারাই ববের সম্পর্কে সঠিক কথাটা বলবে। ধরুন গ্রেগ চ্যাপেল, ওই সময় অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে দুর্দান্ত ব্যাট করত। কিন্তু এই চ্যাপেলকেই বব একাধিকবার ব্যাকফুটে নিয়ে ছেড়েছিল। ববের বোলিং নিয়ে কথা বলতে গেলে সবাই হয়তো ৮১-র অ্যাশেজে হেডিংলি টেস্টের কথাই বলবে। শুধু ওই দিনটি নয়, ক্যারিয়ারে অনেক ম্যাচেই পেস, সঠিক লেন্থ ও দুর্বোধ্য অ্যাঙ্গেল দিয়ে অনেক সেরা ব্যাটসম্যানেরও ঘুম হারাম করে ছেড়েছে সে।
মাত্র ২৫ গড়ে ৩২৫ উইকেট নিয়েছে সে। এটা চাট্টিখানি কথা নয়। তখন এটা রেকর্ড ছিল। ওই পর্যায়ে আসতে ববকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। তার শরীরটা কেমন দেখেছেন তো! ওর শরীর কিন্তু সহজাত পেসারদের মতো নয়। সহজাত পেসারদের শরীর কেমন তা উইন্ডিজে পাবেন কিন্তু ইংল্যান্ডে ব্যাপারটি অনেক কঠিন। বব সেই অবস্থা থেকেও নিজেকে ওই উচ্চতায় নিয়েছে, এটা বেশ পরিশ্রমের। সবার জন্য লিডসের (হেডিংলি) ওই বোলিং পারফরম্যান্সটা মনে করা সহজ। কারণ ওটা ববের ক্যারিয়ার সেরা। আমরা সবাই (ওই দলের) ভাগ্যবান যে সেদিন মাঠে ছিলাম এবং এমন একটি ফাস্ট বোলিং স্পেল দেখেছিলাম। এখনো যতবার সেই দিনটির কথা মনে পড়ে ততবারই ফিরে আসে বলের চেয়েও বেশি বেগে ছুটে আসা ববের ছবি।
সেদিন আমি কভারে ফিল্ডিং করছিলাম। আর যতবার সে উইকেট নিচ্ছিল ততবারই ৪০-৫০ গজ দৌড়েছি শুধু তাকে সাবাশি দেওয়ার জন্য। সেদিন তার বোলিং দেখাটা যেকোনো ক্রিকেটপ্রেমীর জন্য আবশ্যিক হয়ে উঠেছিল, আর আমরা তো ক্রিকেটার। এমনকি কিছু অজি সমর্থককেও ওর উইকেটে হাততালি দিতে দেখেছি। দিন শেষে তার স্পেলটা যখন ৮/৪৩-এ দাঁড়াল তার চোখে যে আনন্দ দেখেছি তা এখনো আমার চোখে ভাসে। দিন শেষে হেডিংলির বারান্দায় ববের সাক্ষাৎকার নিতে এসেছিল পিটার ওয়েস্ট নামে এক সাংবাদিক। দেখেছিলাম কী আনন্দ, তৃপ্তি ও নিজেকে প্রমাণের স্বস্তি নিয়ে সে সাক্ষাৎকারটা দিয়েছিল। তখন বেশ কয়েকজন অধিনায়ক বদলেছিল ইংল্যান্ড দলে। খুব ভালো অধিনায়ক, ভালো অধিনায়ক বা একদম ব্যর্থ অধিনায়কÑ বব ছিলেন এর মাঝামাঝি। বোলিংয়ে মনোযোগী হওয়ার পরও নেতৃত্ব দেওয়াÑ অসম্ভব কাজটাই ঠিকঠাক করত সে।
আবার যখন থেকে বব ধারাভাষ্য শুরু করল তখন আমাদের জন্য নতুন শেখার পথ তৈরি হলো। তার ক্রিকেটিং মস্তিষ্ক, চিন্তাধারা অথবা এমন কিছু ইংরেজি ফ্রেজ উচ্চারণ করত যাতে আমরা মুগ্ধ না হয়ে পারতাম না। সে সত্যিকার অর্ধেই আমাদের ক্রিকেট বা ইংল্যান্ড ক্রিকেটের একজন অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। মাঠে বা মাঠের বাইরে ৫০ বছর ধরে বব যা করেছে তা এক কথায় অসাধারণ। তার জন্য জিওফ মেরিলের সেরা পানীয়ের গ্লাস তুলে ধরব।