কুমিল্লা মৌলভীবাজার চাঁদপুর পটুয়াখালী মুক্ত দিবস আজ

একাত্তরের মধ্য ডিসেম্বর এগিয়ে আসতে থাকলে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে মুক্ত এলাকার সংখ্যা। মুক্তিকামীরা ৮ ডিসেম্বর লাল-সবুজের পতাকা ওড়ায় কুমিল্লা, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহের ভালুকা, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও মাদারীপুরের কালকিনিতে। এদিন এসব এলাকায় ‘জয় বাংলা’ সেস্নাগানে মুখরিত হয় স্বাধীন অঞ্চলের আকাশ-বাতাস। মুক্ত দিবস উপলক্ষে ওইসব এলাকায় নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। ঢাকার বাইরের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর–

কুমিল্লায় আত্মসমর্পণ করে বিমানবন্দরের ঘাঁটিতে : ৭ ডিসেম্বর রাতে তিন দিক থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী কুমিল্লা বিমানবন্দরের ২২ বেলুচ রেজিমেন্টের ঘাঁটিতে আক্রমণ শুরু করে। মর্টার ও আর্টিলারির উপর্যুপরি আক্রমণে শেষ রাতের দিকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় হানাদাররা। রাতভর যুদ্ধে শহীদ হন ২৬ মুক্তিযোদ্ধা। হানাদারদের কতিপয় সেনা বরুড়া এবং কুমিল্লা সেনানিবাসের দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সকালে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীসহ সর্বস্তরের জনগণের উল্লাস ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে সমগ্র কুমিল্লা।

যৌথ আক্রমণের মুখে মৌলভীবাজার ছাড়ে হানাদাররা : মৌলভীবাজারের শেরপুর ও শমসেরনগরে সম্মুখ যুদ্ধসহ মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটে সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়। ৭৮ জন মুক্তিযোদ্ধা ও অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এদিন মৌলভীবাজার হানাদার মুক্ত হয়। এরপর তৎকালীন মহকুমা হাকিমের কার্যালয়ে (বর্তমান জর্জকোট ভবন) আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

ভোরের আক্রমণে টিকতে পারেনি পাকিস্তানিরা : মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা ভোরে চাঁদপুর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এই দিনেই চাঁদপুর থানার সামনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এর আগে কয়েকটি স্থানে ৩৬ ঘণ্টা ধরে যুদ্ধ চলে।

রাতে লঞ্চে করে পটুয়াখালী ছেড়ে পালায় দখলদাররা : হানাদার বাহিনীর বিমান হামলায় বিধ্বস্ত পটুয়াখালীতে বর্তমান সিইসি কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে গলাচিপার পানপট্টিতে সম্মুখযুদ্ধ হয়। এতে সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয় এবং আহত হয় আরও কয়েকজন। এমন পরিস্থিতিতে রাতে হানাদাররা লঞ্চে করে পালিয়ে গেলে মুক্ত হয় পটুয়াখালী।

ভালুকায় নেতৃত্ব দেয় আফসার বাহিনী : একাত্তরের ৮ ডিসেম্বর আফসার বাহিনীর তিন দিক থেকে আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা ভালুকার ঘাঁটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধারা ভালুকা থানা প্রাঙ্গণে ওড়ান স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

জনসমুদ্রে পরিণত হয় মিরসরাই উচ্চবিদ্যালয় মাঠ : মুক্তিযোদ্ধারা ৮ ডিসেম্বর প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সংগঠিত হয়ে হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শুরু হয় যুদ্ধ। একসময় খানসেনারা পিছু হটে। মুক্ত হয় মিরসরাই। চারদিক থেকে জয়বাংলা সেস্নাগান নিয়ে মিরসরাই উচ্চবিদ্যালয় মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কালকিনিতে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েন : ৮ ডিসেম্বর মাদারীপুরের কালকিনিতে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েন পাকিস্তানি হানাদারদের ওপর। এতে করে তারা পরাজয় বরণ করে। সেদিন তারা কালকিনি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

লোহাগড়ায় সম্মুখযুদ্ধে পরাস্ত হয় হানাদাররা : নড়াইলের লোহাগড়ায় ৮নং সেক্টরের অধীনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখযুদ্ধের মাধ্যমে লোহাগড়া থানাকে হানাদারমুক্ত করেন। লোহাগড়ার বুকে উড়তে থাকে লাল সবুজের পতাকা। মুক্তিযোদ্ধাদের পরিকল্পিত আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর রেঞ্জার সদস্যরা হতভম্ব হয়ে পালিয়ে যায়।