গৃহবধূর লাশ রেখে পালিয়েছে স্বামী শ্বশুরবাড়ির মানুষ

ঘরের বিছানায় গৃহবধূ তামান্নার (২০) মরদেহ পড়ে আছে। পাশেই ঘুমিয়ে আছে ১ বছর ৩ মাস বয়সী শিশুকন্যা তাসলিমা। আর তামান্নার মরদেহ রেখে তার স্বামী শিপন শেখসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে। 

ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের পারবিষ্ণুপুর গ্রামে। গতকাল শনিবার সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদ‡ন্তর জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

তামান্নার চাচাত ভাই সোহেল রানা জানান, পারবিষ্ণুপুর গ্রামের রব্বেল শেখের ছেলে দিনমজুর শিপনের সঙ্গে পিরোলী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের আকতার মোল্যার মেয়ে তামান্না খাতুনের বিয়ে হয় ৩ বছর আগে।

তামান্নার বাবা ইটভাটাশ্রমিক আকতার মোল্যা জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী শিপনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তামান্নাকে প্রায়ই মারধর ও নির্যাতন করত। গত এক মাসের মধ্যে তিনবার তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।

তামান্নার বাবা অভিযোগ করেন, ‘সর্বশেষ গত ৬ ডিসেম্বর সকালে মাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তামান্নাকে তার শাশুড়ি মারধর করে। ওইদিন রাত ১২টার দিকে প্রতিবেশী আনোয়ার মোবাইল ফোনে তামান্নার মৃত্যুর খবর দেন। আমাদের পরিবারের লোকজন ওই বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান তামান্নাকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরে লেপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। তামান্নার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সবাই পালিয়ে গেছে। তামান্নার মুখের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন আছে।’

কালিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে তামান্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তামান্নার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।