শাবিপ্রবিতে সান্ধ্য আইন বাতিল, আন্দোলনে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৮ দিনের চলমান আন্দোলন শেষে স্বল্পমেয়াদি দাবিগুলো লিখিত আকারে মেনে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সান্ধ্য আইন বাতিলসহ দাবি মেনে নেওয়ায় আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

রবিবার দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে লিখিত আকারে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিষয়ে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কোষাধ্যক্ষ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সম্মতি দিয়েছেন। পাশাপাশি দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছেন উপাচার্য।’

শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি ছাড়া বছরে ৩৬৫ দিনই আবাসিক হল খোলা রাখা হবে। এ ছাড়া ছাত্রীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা রাত ১০টা ১৫মিনিট করা হয়েছে। সমাবর্তন উপলক্ষে আগামী বছরের ৫-৮ জানুয়ারি হল বন্ধ না রেখে শুধু আট তারিখ রাষ্ট্রপতি ক্যাম্পাসে থাকাকালীন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হল বন্ধ রাখার বিষয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’।

দাবি বিষয়ে তিনি আরো জানান, ‘রোড পেইন্টিং থেকে শুরু করে যেকোনো ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হবে। রাত ১০টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা রাখা, একাডেমিক বিল্ডিংয়ে রিডিং রুমের ব্যবস্থা করা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান বৃদ্ধিসহ দাম কমানো, টং দোকানগুলোতে যে কোনো স্বাস্থ্যকর খাবারের অনুমতি দেওয়া এবং চাহিদা মোতাবেক খোলা রাখা হবে।’

এ ছাড়া আইআইসিটি ও পরিসংখ্যান বিভাগের গ্যালারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে অর্থ না নেয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানান কোষাধ্যক্ষ।

এ সময় আগামী বছরের শুরু থেকে দীর্ঘমেয়াদি দাবিস বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলোকে স্বাগত জানিয়ে আন্দোলন স্থগিত করে তাৎক্ষণিক ক্যাম্পাসে বিজয় ও আনন্দ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে সকাল ১০টার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদারসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিকেল ৪টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।