বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজে দিবা-রাত্রির টেস্ট রাখতে চায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ভেন্যু হিসেবে করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামকে ঠিক করে ফেলেছে তারা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) শিগগিরই প্রস্তাবটি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানি। তবে বিসিবি এখনো নিরাপত্তা রিপোর্টের অপেক্ষায়। তাই আদৌ তারা পাকিস্তানে সফর করবে কি না সেটাও জানা যায়নি।
অবশ্য একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, পুরো সিরিজ পাকিস্তানে খেলার ইচ্ছা নেই বাংলাদেশের। শুধু তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে চায় বাংলাদেশ। দুটি টেস্ট খেলবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। দুই বোর্ড এখনো সিরিজ হওয়া নিয়ে মুখোমুখি হয়নি। তাই কী হতে যাচ্ছে সে বিষয়ে আঁধারেই থাকতে হচ্ছে। তবে পিসিবি ঘরের মাঠে পুরো সিরিজ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোমে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের সিরিজ আয়োজনের পর টেস্টে সিরিজও আয়োজন করতে যাচ্ছে তারা। ১০ বছরে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের টেস্ট খেলতে পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা। তাই পিসিবির আত্মবিশ্বাস পূর্ণশক্তির বাংলাদেশও তাদের ঘরের মাঠে পুরো সিরিজ খেলবে। তাই তিন টি-টোয়েন্টির পর টেস্ট আয়োজন নিয়েও এগিয়ে চলছে পিসিবি। করাচি টেস্টকে দিবা-রাত্রির টেস্ট করার পরিকল্পনাও নিয়েছে তারা।
দিবা-রাত্রির টেস্টের বিষয়টি ক্রিকইনফোকে জানিয়ে এহসান মানি বলেন, ‘আমরা এই পদক্ষেপটা নিচ্ছি পাকিস্তানে দিবা-রাত্রির টেস্টকে জনপ্রিয় করে তুলতে। এছাড়া দর্শকরাও এখন পর্যন্ত গোলাপি বলের টেস্ট দেখেনি। মাঠে বসেই তারা দেখতে পারবে এবং এতে করে টেস্টে পাকিস্তানেও ভালো দর্শক হবে।’ সাবেক আইসিসি প্রধান আরও যোগ করেন, ‘আমরা আসলে ঘরের মাঠের ফিকশ্চারে একটি দিবা-রাত্রির টেস্ট আয়োজন করতে চাচ্ছি। সেটা যত দ্রুত সম্ভব হলে ভালো। এজন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছি। টেস্টে খালি স্টেডিয়াম থাকাটা খুবই দৃষ্টিকটু। পাকিস্তানে এটা হোক তা আমরা চাই না। পাকিস্তানে সবসময়ই ক্রিকেট মাঠে দর্শক ছিল। এখন আবার পাকিস্তানে ক্রিকেট ফিরতে শুরু করেছে। এখন নতুন কিছু দিয়েই শুরু হোক। ক্রিকেটের সব দলই তো এখন দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে শুরু করেছে। আমরাও ঘরের মাঠে এই পথে পা দিতে চাই।’
পিসিবি অনেক আগে থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে গোলাপি বলের ম্যাচ আয়োজন করছে। ২০১১ সালে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে প্রথমবার তারা দিবা-রাত্রির ম্যাচ খেলে। এমনকি আন্তর্জাতিকেও সবার আগে গোলাপি বলে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করে পাকিস্তান। ২০১৩ তে দিবা-রাত্রির টেস্ট আয়োজন করতে চেয়েছিল তারা। সেটা হয়নি। এর দুবছর পর ইতিহাসে প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেওয়ার আগে শ্রীলঙ্কাকেও এ ব্যাপারে জানায় পিসিবি। কিন্তু প্রস্তুতির অভাবে গোলাপি বলে খেলতে রাজি হয়নি লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। এছাড়া রাতের টেস্টে ইতিমধ্যে চার ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান।