বাদুড়বাহিত নিপা ভাইরাস ‘মারাত্মক মহামারির’ কারণ হয়ে উঠতে পারে

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাদুড়বাহিত নিপা ভাইরাস ‘মারাত্মক মহামারির’ কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। নিপা আক্রান্তদের চিকিৎসায় এখনো কোনো ওষুধ কিংবা টিকা উদ্ভাবন না হওয়ায় এতে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ।

সোমবার সিঙ্গাপুরে নিপা ভাইরাস বিষয়ক এক সম্মেলনে সতর্ক করে এ তথ্য জানান কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস (সিইপিআই) প্রধান নির্বাহী রিচার্ড হ্যাচেট।

১৯৯৯ সালে প্রথম মালয়েশিয়ায় প্রথম শনাক্ত হয় নিপা ভাইরাসটি। শনাক্তের দুই বছরের মধ্যেই ২০০১ সালে বাংলাদেশে নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে মেহেরপুর, নওগাঁ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ ও রংপুরে মানব দেহে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়।

২০১১ সালে বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। আর গত বছর ভারতের কেরালায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়।

সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা জানান, নিপা ভাইরাস শনাক্তের পর ২০ বছর কেটে গেছে, কিন্তু নিপা ভাইরাসের কারণে তৈরি হওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি সামলানোর মতো পর্যাপ্ত উপকরণ এখনো বিশ্বে নেই।

নিপা ভাইরাসটি মূলত বাদুড় এবং শূকরের মাধ্যমে ছড়ায়। তাছাড়া এই ভাইরাস সরাসরি মানুষের মাধ্যমে এবং দূষিত খাবার থেকেও ছড়াতে পারে।  

রিচার্ড হ্যাচেট বলেন, নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখনো পর্যন্ত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সীমাবদ্ধ, তবে এটি মারাত্মক মহামারির রূপ নিতে পারে। কারণ এই ভাইরাসের বাহক টেরোপাস (ফ্লাইং ফক্স নামেও পরিচিত) বাদুড় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়, যেখানে প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস।

সিঙ্গাপুরে দুই দিন ব্যাপী নিপা সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে সিইপিআই ও ডিউক-এনইউএস মেডিকেল স্কুল। এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে বিশেষজ্ঞরা নিপা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ খুঁজে পাবেন বলে তিনি আশা করা হচ্ছে।