মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের শুনানির প্রথম দিনে নির্বিকার হয়ে বসেছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি।
বিবিসি বাংলা জানায়, শুনানিতে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার ঘটনা তুলে ধরার সময় পাথরের মতো মুখ করে বসে ছিলেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর সু চি।
নেদারল্যান্ডসের হেগের পিস প্যালেসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগ আনে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
মঙ্গলবার এই অভিযোগের তিনদিন ব্যাপী শুনানি শুরু হয়। এতে মিয়ানমারের পক্ষে একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অং সান সু চি।
গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবুবাকার তাম্বাদু শুনানির শুরুতে বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচার হত্যার প্রশ্নে বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করতেই তার দেশ আইসিজেতে এই অভিযোগ এনেছে।
তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্ব কেন এখন নীরব দর্শক? কেন আমাদের জীবদ্দশাতে এটা আমরা ঘটতে দিচ্ছি? সবাই মনে করে এখানে মিয়ানমারের বিচার হচ্ছে। আসলে এখানে বিচার চলছে আমাদের সামগ্রিক মানবিকতার।’
শুনানির প্রথম দিনে বাদীপক্ষের বক্তব্য শোনা হচ্ছে। মিয়ানমার এসব অভিযোগের জবাব দেবে বুধবার। এরপর বৃহস্পতিবার দু'পক্ষের মধ্যে যুক্তি-তর্ক হবে।
তবে প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে সু চি যুক্তি দেখাবেন যে, এই বিষয়ে বিচার করার অধিকার আইসিজের নেই।
শুনানিতে বক্তব্য রাখার সময় গাম্বিয়ার নিযুক্ত একজন কৌঁসুলি অ্যান্ড্রু লোয়েনস্টিন রাখাইনের মংডু শহরে বেশ কয়েকটি পাইকারি খুনের বিবরণ পেশ করেন।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, যাকে টাটমাডাও নামেও ডাকা হয়, ওই শহরের শত শত রোহিঙ্গা বেসামরিক পুরুষকে হত্যা করে এবং নারীদের ধর্ষণ করে।
আইসিজের ওয়েবসাইট থেকে লাইভ স্ট্রিম করা শুনানিতে এসব বিবরণ যখন পড়ে শোনানো হচ্ছিল তখন অং সান সু চির মুখে কোনো অভিব্যক্তি লক্ষ্য করা যায়নি।
কখনো সোজা সামনে তাকিয়ে, কখনো মাটির দিকে তাকিয়ে বাদীপক্ষের বক্তব্য শুনতে দেখা যায় তাকে।
শুনানির প্রথম দিকে গাম্বিয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, আদালতের কাছ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ লাভ করা। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা রয়ে গেছেন তাদের ওপর যে কোনো ধরনের নির্যাতন না চলে, তা সুনিশ্চিত করা। পাশাপাশি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ধ্বংস করার বিরুদ্ধেও ওই আদেশ কার্যকরী হবে বলে বাদী পক্ষ আশা করছে।
এদিকে অক্সফোর্ডের ট্রিনিটি কলেজের আইনের অধ্যাপক মাইকেল বেকার বলেন, ‘আদালত এই রায় দেবে কি দেবে না, সেটা নতুন বছরের শুরুর দিকেই জানা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা এক দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সূচনা মাত্র। এই মামলাটির নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর লেগে যাবে। কিন্তু গোড়ার দিকেই মিয়ানমারের অভ্যন্তরের রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপত্তা বিধানের প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’