ভোট দিয়ে স্বাধীনতার আরও কাছে বুগেনভিলে

স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়ে নিজেদের দেশ পাওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আদিবাসী দ্বীপ বুগেনভিলে। তারা এখনো পাপুয়া নিউ গিনির অধীনে আছে।

বুধবার গণভোটের ফলাফল জানিয়েছেন আয়োজকেরা। গণভোট আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান বার্তি আহের বলেন, ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৮ জন ভোট দিয়েছেন। তার মধ্যে মাত্র ৩ হাজার ৪৩ জন পাপুয়া নিউ গিনির অধীনে থাকতে চেয়েছেন।

এই ফলাফল অবশ্যই নিউ গিনির সংসদে অনুমোদন পেতে হবে। সেখানে উতরে গেলেই স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে সাগরের ভেতর আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে জন্ম নেওয়া ১০ হাজার বর্গকিলোমিটারের দ্বীপটি।

সংসদে কিছুটা বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে এই অঞ্চলের মানুষদের। অনেক সাংসদ পক্ষে ভোট দেবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গণভোটের একচেটিয়া জয় দ্বীপটিকে স্বাধীন করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

১৯৮৮ সালে পাপুয়া নিউ গিনি রিপাবলিক অব দ্য নর্থ সলমন নাম দিয়ে এই দ্বীপকে স্বাধীনতা দিতে চেয়েছিল। তখন অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউ গিনির কিছু রাজনৈতিক দল ও দ্বীপের আদিবাসীদের বিরোধিতায় ভেস্তে যায় সেই চেষ্টা। শুরু হয় যুদ্ধ। টানা ৯ বছর যুদ্ধ শেষে ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় থামে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। প্রাণ হারান প্রায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ, যা সেই সময় দেশটির জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ।

যুদ্ধ শেষে বুগেনভিলে শান্তি চুক্তি হয় দুই পক্ষের মধ্যে। ওই চুক্তির ভিত্তিতেই ২০০৫ সালে দ্বীপটি স্বায়ত্তশাসন পায়। চুক্তিতেই উল্লেখ ছিল এই গণভোটের। এই চুক্তি ছাড়াও ২০২০ সালের মধ্যে দ্বীপটির স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দুই হাজারেরও বেশি চুক্তি হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।