‘সাংবাদিকদের জন্য’ ফর্ম হারিয়ে ফেলেন ইমরুল

জাতীয় দলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ভারত সফরের টেস্ট দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। পারিবারিক কারণে তামিম ইকবাল ছিলেন না, অভিজ্ঞ ইমরুল সেই অভাব কিছুটা হলেও মেটাবেন এটাই ছিল সবার চাওয়া।

কিন্তু ভারতে দুই টেস্টেই বাজে ভাবে ব্যর্থ হন ইমরুল। তবে দেশে ঘরোয়া আসর বিপিএল শুরু হতেই ইমরুলের ব্যাটে রান। বুধবার তার ব্যাটেই বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট থান্ডারকে হারিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

ঘরোয়া আসরে রান পান, অথচ জাতীয় দলে সেটি টেনে নিতে পারেন না। কেন পারেন না এ নিয়ে ইমরুল দায় দিচ্ছেন সাংবাদিকদের। বলছেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের কারণেই জাতীয় দলে এসে ফর্ম হারান তিনি।

এদিন বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় ইমরুলদের চট্টগ্রাম। মোহাম্মদ মিঠুনের ৪৮ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংসে ভর করে ৪ উইকেটে ১৬২ রানের পুঁজি গড়েছিল সিলেট। জবাবে শুরুতে চাপে পড়লেও ইমরুলের ৩৮ বলে ৬১ রানের ইনিংসে ৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম।

দারুণ এই ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন ইমরুল। ম্যাচের নায়ক হিসেবে পরে আসলেন সংবাদ সম্মেলনে। যেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটের ফর্ম জাতীয় দলে টেনে নিতে পারেন না কেন এই প্রশ্ন হলো। ইমরুলের উত্তর, ‘আপনাদের এই কথার জন্য আমি ফর্ম হারিয়ে ফেলছি। ফর্মে থাকতে থাকতে আমি ফর্ম থেকে হারিয়ে যাই।’

পরে অবশ্য বললেন, ‘জাতীয় দলে আমরা একটা বা দুইটা ম্যাচ খেলি। টেস্ট খেলের পর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলি। জাতীয় দলে এক ম্যাচ রান না করলে কঠিন। এখানে (বিপিএলে) আমি জানি সব ম্যাচ খেলব। এই স্বাধীনতা থাকলে রান করা সহজ হয়।’

ভারত সফরে দুই টেস্ট মিলে ইমরুলের রান ছিল ২১। ইন্দোরে প্রথম টেস্টে দুই ইনিংস মিলে করেছিলেন ১২ (৬+৬)। কলকাতায় করেন ৯ (৪+৫)। স্বাভাবিক ভাবেই এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সমালোচনা হয়েছে খুব। ইমরুল অবশ্য এই সমালোচনাকে নিয়েছেন ইতিবাচকভাবেই, ‘সমালোচনা তো হবেই। মানুষ বিখ্যাত না হলে তো সমালোচনা হয় না। ভারত সিরিজে আমি খারাপ করেছি। আমি নিজেও খুব আপসেট।’