নাগরিকত্ব বিল পাস ভারতের রাজ্যসভায়: তুমুল বিক্ষোভ

লোকসভার পর ভারতের রাজ্যসভায়ও পাশ হলো নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)। ভোটাভুটিতে ১২৫টি ভোট পড়েছে বিলের পক্ষে। বিপক্ষে ভোট ১০৫টি। এ বার রাষ্ট্রপতি সই করলেই এই বিল আইনে পরিণত হবে।

খবর আনন্দবাজার।

এ দিন রাজ্যসভায় আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ দাবি করেন, ‘লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে ধর্মীয় প্রতারণা হয়েছে। এ বিলের মাধ্যমে সে সব শরণার্থীদের অধিকার দেওয়া হবে।’

এ দেশে বসবাসকারী মুসলিমদের আশঙ্কার কোনও কারণ নেই আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সন্ধ্যার দিকে বক্তৃতায়  অমিত শাহ বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশে এই বিল আনা হয়নি। আগের সরকার বিষয়টির যথাযথ মোকাবিলা করতে পারেনি।

বিরোধী কংগ্রেসের পক্ষে বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে আনন্দ শর্মা বলেন, ‘‘এই বিল ‘ভারতের আত্মার উপরে আঘাত।’’

বুধবার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে আসাম ও ত্রিপুরায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। দুই রাজ্যেই একাধিক বাস ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ত্রিপুরায় গুলি চালিয়েছে পুলিশ। গোয়াহাটিতে জারি হয়েছে কারফিউ। বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট ও মোবাইল। দুই রাজ্যেই সেনা মোতায়েন হয়েছে।

সোমবার লোকসভায় পাস হওয়ার পর বুধবার রাজ্যসভায় পেশ করা হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল।

এ বিলের প্রতিবাদে মঙ্গলবার আসামে অনির্দিষ্টকালের জন্য বনধ ডাকা হয়। মঙ্গলবার ত্রিপুরা, মণিপুর ও অরুণাচলেও বিক্ষোভ হয়। এতে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী।

এ বিলে বলা হয়েছে, মুসলিম ছাড়া আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে ভারতে শরণার্থী হিসেবে হিন্দু, পার্সি, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা আশ্রয় নিতে বাধ্য হলে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

বুধবার বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারপর লোকসভার মতো রাজ্যসভাতেও এ বিল নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।

আর এ বিলের প্রতিবাদে তুমুল বিক্ষোভ হয় ভারতের দুই রাজ্যে।

আনন্দবাজার জানায়, সেনা মোতায়েন করা হয়েছে ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর ও মনু এলাকায়। আসামের বঙ্গাইগাঁও ও ডিব্রুগড়েও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুরে পুলিশকে শূন্যে ১০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে হয়।

বিলের প্রতিবাদে গুয়াহাটিতেও বিক্ষোভ করেন ছাত্রছাত্রীরা। দিসপুরে যাওয়ার পথে মূল সড়ক গুয়াহাটি-শিলং রোড অবরোধ করেন তারা। অবরোধ ওঠাতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পুলিশ। ডিব্রুগড়ের চাউলধোওয়ায় পুলিশের লাঠিতে গুরুতর জখম হন কয়েকজন ছাত্র। বিক্ষোভের জেরে ডিব্রুগড় ও গুয়াহাটির সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অর্নির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাতেও একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

আনন্দবাজার আরো জানায়, ত্রিপুরায় গুজব ঠেকাতে মোবাইল, ইন্টারনেট ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। অবরোধ থাকা অবস্থায় এক অসুস্থ শিশুর মৃত্যু হয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে।

রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব বিল সম্পর্কে অমিত শাহ বলেছেন, এ বিলের মাধ্যমে শরণার্থীরা তাদের অধিকার পাবেন। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা শরণার্থীরা আশ্রয় পাবেন। কোনো মুসলিমের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার সংবিধান মেনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেবে।

ভারতীয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার এক টুইটে অভিযোগ করে বলেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা সিএবি-র মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের নিজস্ব পরিচিতিকে ধুয়ে-মুছে ফেলার চেষ্টা করছে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ সরকার। বিলের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে সামিল মানুষের পাশে আছেন বলেও জানান রাহুল।

লোকসভায় অসুবিধা না হলেও রাজ্যসভায় বিল পাশে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদদের একাংশ। নাগরিকত্ব বিল পাশ করাতে প্রয়োজন ১২১ সাংসদের ভোট।