ভাইভা দিতে এসে ‘শিবির সন্দেহে’ শাখা ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও তার এক বন্ধু।
বুধবার দুপুরে এমবিএ পরীক্ষার ভাইভা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার মোহাম্মদ ইমরান মক্কী চবির ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী। এ সময় আব্দুল মালেক নামে তার এক বন্ধুকেও মারধর করা হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। মারধরকারীরা চবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু এবং চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিভাগের এমবিএ পরীক্ষার ভাইভা চলাকালীন মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর কয়েকজন এসে ইমরানকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় সাধারণ সম্পাদক টিপু‘র অনুসারীরা। এ সময় ফেসবুকে বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট দেয়ার অভিযোগ এনে ‘শিবির আখ্যা’ তাকে দিয়ে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। এতে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে কিছু সময় ভাইভা পরীক্ষা স্থগিত রাখে কর্তৃপক্ষ। পরে বিভাগের শিক্ষকরা বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডিকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। এটাও শুনেছি এই ছেলে নাকি শিবিরের সাথি (সদস্য) এবং তার নামে বিস্ফোরক আইনে মামলাও রয়েছে। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তাকে মারধরের এখতিয়ার ছাত্রলীগের কারও নেই। আমরা বিষয়টি দেখব।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি পুলিশকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানা ওসি (অপারেশন) তৌহিদুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।