ক্ষমতার অপব্যবহার অপরাধ নয়

অভিশংসনের ঝুঁকির মুখে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহেই দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে এই ইস্যুতে হতে পারে ভোটগ্রহণ। তার আগেই অবশ্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ দুটি খসড়া নিবন্ধ প্রকাশ করতে যাচ্ছে। তাতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হবে। এই অবস্থায় এসে গত মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার কোনো অপরাধ নয়।

ট্রাম্প বলেন, এই যে সবাই অভিশংসনের জিকির তুলেছে কিন্তু তা সত্যিকারের কোনো কিছু? এটা ইতিহাসের হালকাতম ঘটনা। যেভাবে অভিশংসনের প্রক্রিয়া এগোয় এখানে তেমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না। 

জানা গেছে চলতি সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটদের আনীত দুটি নিবন্ধে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগের পাশাপাশি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ প্রশ্নে বিশেষ কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলারের করা রিপোর্টের উল্লেখযোগ্য অংশও উপস্থাপন করা হতে পারে।

গত সোমবার প্রথম অভিশংসন শুনানির পর ডেমোক্রেটিক কমিটির নেতারা হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে দেখা করেন। এরপরই পেলোসির দপ্তর থেকে জানানো হয়, প্রতিনিধি পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবে। নয় ঘণ্টা ধরে অভিশংসন শুনানি শোনেন হাউজ জুডিশিয়ারি কমিটির ডেমোক্রেটিক চেয়ারম্যান জেরল্ড নাডলার। শুনানি শেষে তিনি ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সহায়তা চেয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপের নিন্দা জানান। ট্রাম্পের ওই পদক্ষেপকে ডেমোক্র্যাটরা জাতীয় নিরাপত্তা ও আসন্ন নির্বাচনের জন্য ‘স্পষ্ট বিপদ’ হিসেবে দেখছেন। শুনানি শেষে এক বিবৃতিতে নাডলার বলেন, ‘বিষয়টা পরিষ্কার। আমাদের গণতন্ত্র বিপদের মধ্য আছে এটা পরিষ্কার। আমাদের দায়িত্ব এই বিপদ দূর করা।’ চলতি সপ্তাহেই জুডিশিয়ারি প্যানেল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে প্রতিনিধি পরিষদের কাছে পাঠাবে, এমন সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদ খসড়া নিবন্ধে অনুমোদন দিলে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন সিনেটকে ট্রাম্পকে অপসারণের বিষয়টি আমলে আনতে হবে। আর তখন স্বাভাবিক নিয়মেই সিনেটের মুখোমুখি হতে হবে ট্রাম্পকে। প্রেসিডেন্ট আগাগোড়াই তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

সোমবারের শুনানির সময় রিপাবলিকানরা বেশ হইচই করেন। শুনানির প্রক্রিয়াকে তারা অবৈধ হিসেবে আখ্যা দেন। ট্রাম্পকে অপসারণ করতে ডেমোক্র্যাটরা রাজনৈতিক মিশন চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রিপাবলিকানদের। রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডগ কলিন্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করতে তারা (ডেমোক্র্যাটরা) মরিয়া। ট্রাম্প যে বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ভুলভাবে চাপ দিয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বৈঠক বা দেশটিকে দেওয়া ৩৯১ মিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা বন্ধের কোনো নিরেট প্রমাণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে নেই বলেও দাবি করছেন রিপাবলিকানরা।