চাঁদা দাবির মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদের সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা জামিন পেয়েছেন।
বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় এ আদেশ দেন।
এ বিষয়ে পিয়াসার আইনজীবী নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপন জুয়েলার্সের মালিকের সাবেক পুত্রবধূ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন মঞ্জুর করেন।
এ আইনজীবী আরও বলেন, এর আগে একই আদালতে গত ৫ মার্চ পিয়াসার শ্বশুর আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম বাদী হয়ে সাবেক পুত্রবধূ পিয়াসার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেন। সেদিন বিচারক মামলাটি গুলশান থানা পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
পরে গত ১ আগস্ট গুলশান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম আসামি ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে পিয়াসাকে অভিযুক্ত করা হয়। সে প্রতিবেদনের পরে একই আদালত গত ১১ ডিসেম্বর পিয়াসাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশ পেয়ে গতকাল পিয়াসা আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন বলে তার আইনজীবী নজরুল ইসলাম জানান।
এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি পিয়াসা ফাঁদে ফেলে সাফাত আহমেদকে বিয়ে করেন। পরে সাফাত জানতে পারেন, পিয়াসা মাদকাসক্ত এবং উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা ও জীবনযাপনে অভ্যস্ত। পরে সাফাত আহমেদ ২০১৭ সালের ৮ মার্চ পিয়াসাকে তালাক দেন।
সাফাত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর গত বছর ২৯ নভেম্বর জামিন পান। সাফাত জামিন পাওয়ার পর পিয়াসা বাড়িতে যান এবং পরিবারের লোকজনের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও অনৈতিক কার্যকলাপ শুরু করেন। দিলদার আহমেদ পিয়াসা ও তার বন্ধুদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। পিয়াসা তাতে অস্বীকৃতি জানান।
এজাহারে আরও বলা হয়, এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি সাফাতের ছোট ভাই ও মায়ের সঙ্গে পিয়াসার খারাপ আচরণ দেখে বাদী বাধা দেন। পরে পিয়াসা দিলদার আহমেদ ও তার পরিবারের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ৫ কোটি টাকা দাবি করেন।