অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ এনে ফেসবুক লাইভে শিক্ষিকা

রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকারের বিরুদ্ধে লুটপাট, একনায়কতন্ত্র চালিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন একই কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রুমা সরকার।

বুধবার রাত ৯টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ জানান তিনি।

তিনি বলেন, 'নানা খাতে কোনো হিসাব না দিয়ে অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার কলেজের লাখ লাখ টাকা লুটপাট করে নিচ্ছেন। কলেজে শিক্ষামন্ত্রী এসেছেন তা নিয়ে কোনো সাধারণ সভা হয়নি। কত টাকা খরচ হবে, কী কারণে ১৭টি বিভাগ থেকে ৫০ হাজার, ১৭ হাজার, ১৫ হাজার টাকা করে নেয়া হবে? শিক্ষার্থীদের সেমিনারের টাকা কোন কোন খাতে খরচ হবে? ধাপে ধাপে মিটিংয়ের মাধ্যমে সেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এবং তা শিক্ষক পরিষদকে জানাতে হবে। নানা খাতে অধ্যক্ষ কলেজের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কথা বলার সাহস পায় না। আমি এ কথাগুলো বলায় প্রতিনিয়ত আমায় হেনস্তা করা হচ্ছে। শিক্ষক পরিষদের নির্বাচন হয়েছে ২২ জুন। পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন কমিটিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অধ্যক্ষ কলেজে একনায়কতন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন'।

রুমা সরকার আরো বলেন, 'অধ্যক্ষের কক্ষে তার প্রিয় শিক্ষিকাকে সবসময় সামনে বসিয়ে রাখা হয়। অন্যান্য শিক্ষকরা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকেন। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকি, একবার বসতেও বলেন না তিনি। শিক্ষক পরিষদের নির্বাচনে যুগ্ম সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছি। অথচ আমাকে চেয়ারে বসতে দেওয়া হয় না। আমি আবৃত্তি করি, উপস্থাপনা করি, বাংলাদেশ বেতারের খবর পড়ি অথচ সেলিম উল্লাহ খোন্দকার কলেজে আসার পর আমাকে কলেজে কোনো সাংস্কৃতিক কাজ করতে দেওয়া হয় না'।

কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. খালেদা নাসরীন তাকে চরম অপমান করেছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, 'অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত করার পর, কলেজের বর্তমান উপাধ্যক্ষ পূর্বে যেখানে ছিলেন, পার্শ্ববর্তী সেই কলেজে আমাকে বদলি করা হয়েছে। এ ধরনের হয়রানিমূলক বদলি আমি মেনে নেব না'।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, অর্থকেন্দ্রিক বিষয়গুলো কলেজের অভ্যন্তরীণ'। 

তবে বাকি বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

এ ব্যাপারে শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক আকবর হোসেনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার চেষ্টার পরও যোগাযোগ করা যায়নি।