তাছনীম জানান তার প্রমাণ। আইইআর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগে প্রথম; তিনটিতে প্রথম ও দুটিতে দ্বিতীয় হয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাতে সেরা। দুবার গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ। লিখেছেন ওমর শাহেদ, ছবি তুলেছেন ইশতিয়াক সরকার তুষার
তাছনীম জানান অনার্সে সিজিপিএ (চার বছরের অনার্স পদ্ধতির সব মিলিয়ে গড়, ইংরজিতে কমিউলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট) পদ্ধতিতে পেয়েছেন ‘৩.৭৮’। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরে (শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) ভাষা শিক্ষা বিভাগের অনার্সের ছাত্রী ছিলেন। কেন ‘ভাষা শিক্ষা’ প্রয়োজন– জবাবে বললেন, ‘মানুষ যিনি জ্ঞান লাভ করেন কী করতে চান; ভাষার মাধ্যমেই লাভ করেন–লিখিত, মৌখিক বা ছবি যেভাবেই হোক। শিশুর জীবনই শুরু হয় ভাষা শেখায়। মাতৃভাষা বাংলা ও ইংরেজি ভাষাজ্ঞান সম্বল করে জীবনে যা শিখতে চায়, শিখতে পারবে। বই পড়ে আমরা শিখি; কোনো না কোনো ভাষায় শেখা।’ ভাষা শেখার প্রতি খুব আগ্রহে এসএসসি, এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ‘ফাইভ’ লাভ করা মেধাবী ছাত্রীটি তার বিভাগে এবার প্রথম। ক্লাসের পড়ার বাইরে তার আগ্রহ সাহিত্যে। উপন্যাস, গল্প, কবিতা ভালোবাসেন। রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির ‘মা’র কথা আলাদা করে বললেন। কেন ভালো লেগেছে–উত্তর হলো– ‘উপন্যাসটি সেই সময়কে অসাধারণ করে তুলে নিয়ে এসেছে, যখন রুশ বিপ্লবের আগে রাশিয়ার শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে সচেতনতা দানা বেঁধে উঠছে, তাদের অবস্থা, তাদের ওপর শোষণ ও প্রতিক্রিয়া– পরিষ্কারভাবে বইটিতে আছে।’ ভাষা শিক্ষায় ভালো করায় মানে ইংরেজি ও বাংলা ভাষাতে ভালো হওয়ায় অনেক বাংলা ও ইংরেজি ভালো বই পড়তে পেরেছেন তিনি। ফলে ভালো এই ফলাফল– বলতে ভুললেন না। ‘বিভাগের অনেকেই ইংরেজিতে ভালো না হওয়ায় এত ভালো ফল করতে পারেননি, বুঝতে পারেননি বিষয়ের গভীর জ্ঞান, জানালেন। এখন পড়ছেন মাস্টার্সে, এডুকেশনাল সাইকোলজি অ্যান্ড গাইডেন্স (শিক্ষা মনোবিজ্ঞান ও নির্দেশনা)। ইংরেজি দক্ষতায় অনেক নতুন বিষয়ে পড়তে পারছেন বিভাগে। ‘আইইআর লাইব্রেরিতে অনেক ভালো বই আছে’ –বললেন তাছনীম। জানালেন, ‘‘অনিতা উলফোকের ‘এডুকেশনাল সাইকোলজি-এ লানিং থিওরিগুলো (শিখন পদ্ধতি) ভালোভাবে বলা। কীভাবে শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করতে হয়, জানা সম্ভব হয়। পড়ে শিখেছেন- যেকোনো নিরক্ষর, শিশু কী শিখতে চাওয়া মানুষ অভিজ্ঞতায় মিলিয়ে, জীবনে সম্পৃক্ত করে শিখলে যেকোনো বিষয় ভালোভাবে শিখবেন; বাস্তব অভিজ্ঞতা, উদাহরণে জানতে ও বুঝতে পারবেন ভালোভাবে। তাই আছে বইতে।’
আইইআরে ভর্তি হয়েছিলেন ২০১৪-’১৫ শিক্ষাবর্ষে। চেয়েছিলেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন, চিকিৎসক হবেন। বাকিরা তার চেয়ে ভালো করেছেন বলে হলো না। ভর্তি পরীক্ষা দিলেন এখানে। বাবা দেলোয়ার হোসেন এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব, মা আলিমা জাহান নরসিংদীতে কলেজ শিক্ষক ছিলেন। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মেয়েকে মানুষ করতে মা চাকরি ছাড়লেন। খবর নিয়ে মেয়ে তাদের বললেন, কী বিষয়, কীভাবে পড়ানো হয়। এখানেই জোর দিয়ে পড়তে বললেন বাবা। তাছনীমের প্রথম পছন্দ ছিল ‘ভাষা শিক্ষা’। তবে বাবার ইচ্ছে ছিল মেয়ে বাংলায় পড়ুক। পরে বিভাগ বদলে যেন ভর্তি হয়। ভালো লেগে গেল বলে গেলেন না। আইইআরে শিক্ষকদের সমর্থন খুব বেশি। অন্যান্য বিভাগে পাওয়া কঠিন। সাহিত্য ভালো লাগে বলে পড়ালেখায় ভালোবাসা বাড়ল। গোর্কি ভালো লাগে, এরিক মারিয়া রেমার্ক; বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ভীষণ ভালো লাগে, তেমন মানিক। কোনো জায়গায় কোনোদিন যাননি যে পাঠক, তিনিও পুরো মিলে যাবেন বিভূতির ভুবনে। মনে হয় পড়তে পড়তে–নিজেই ছবিটি দেখছেন, লেখাটি মনে দাগ কেটে যাচ্ছে। হুমায়ূন আহমেদ ভালো লাগে। খেয়াল করেছেন, প্রথম দিকের লেখাগুলোয় যেমন যত্নের ছাপ আছে; পরের দিকে সে যত্নের অভাবে অনেক কিছু ছুটে গিয়েছে। সাহিত্যের নিয়মিত পাঠক নিজেকে বললেন, অনিয়মিত কী ছুটিতে, হালকা চালে, সময় কাটাতে পাঠক বলতে ভালো লাগে না। প্রায়দিন পড়েন পড়ার বইয়ের মতো–সাহিত্য। নানা সাহিত্য পড়া তার ভাষা উন্নত করেছে, ভাষা শেখানোর জন্য নিজেরও আলাদা ভাষা জ্ঞানের প্রয়োজন। সাহিত্যে ভাষা শিখেছেন বলেছেন বলে অনেকের চেয়ে ফল ভালো করেছেন, জানালেন খুশি হয়ে। অনেক বেশি সাহিত্য পাঠ তাকে এ জ্ঞানও দিয়েছে– এই মানুষগুলোর মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বেশি; জীবনের নতুন বাঁক মেনে নেওয়ার ক্ষমতাও অনেক। তাদের শিক্ষা মনোবিজ্ঞান ও নির্দেশনার কজন শিক্ষার্থী কয়েকদিনের মধ্যে নতুন গবেষণা করবেন–ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে কার্যকর কোনো ফলাফল আমাদের দেশের নানা স্তরের মানুষের মানসিক স্থিতিশীলতায় হয় কী? হলে কেমন? সেজন্য কী করতে হবে? আগের ফল ধরে রাখবার আশা তার মাস্টার্সেও। প্রথম সেমিস্টার শেষ–ফল হয়নি; ইনকোর্সে সেরা। আগের মতো নিয়মিত শ্রেণি উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারা; শ্রেণিকক্ষকে আনন্দময় ও শিক্ষণীয় করা, নিয়মিত গ্রন্থাগার ব্যবহার, দিনের পড়া দিনে শেষ করছেন সেভাবে। কোনো ছাত্র বা ছাত্রী এমন করে পড়তে পারলে ফল কোনোদিন খারাপ হতে পারে না, হয়ও না–জীবন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা তুমুল ছাত্রীটির। পড়তেই গিয়েছেন আর সবার মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে। পড়েছেন, দেখেছেন, তাতে অসাধারণ বিরাট সংগ্রহ আছে। পুরনো বইয়ের খুব ভালো সংগ্রহ। শাহবাগের গণগ্রন্থাগারে যেতেন অনার্স প্রথম, দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময়। বাংলা ও ইংরেজি বইয়ের ভালো সংগ্রহ। তখন তাদের বাংলা ও ইংরেজির মৌলিক, সংশ্লিষ্ট কোর্স বেশি ছিল। আরও অনেক কপাল পোড়ার মতো তারও এই অসাধারণ শিক্ষাজীবনে ছেদ আছে। দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফাইনাল খুব খারাপ হলো। লিখিত পরীক্ষার খাতা কেটে বের হয়ে গেলেন, মানোন্নয়নে। অধ্যাপক পরে ডেকে বললেন, ‘তাছনীম তুমি এমসিকিউ’র উত্তর করেছ। তাতে আগের পরীক্ষাগুলো মিলিয়ে যে ফলাফল হয়, মানোন্নয়ন দেওয়া সম্ভব হবে না।’ সবসময় ভালো ফলাফল করতে চাওয়া ছাত্রীটি তখন কাঁদো, কাঁদো। পরীক্ষার ফলাফল–এমসিকিউ ২০, দুটি ইনকোর্সের ৩০ ও অ্যাসাইনমেন্টের ১০ নম্বরের ভেতরে পাস। পেয়েছিলেন ৬০-এ ৪৭! ফলে পরে সব সময়, সর্বক্ষেত্রে ভালো ফল করার তাড়না ও চেষ্টা ধরে রাখতে হয়েছে। ফল পেয়েছেন। বিভাগের শিক্ষকদের আলাদা সুনাম না গাইতে চাইলেও জোর করলে বললেন অধ্যাপক শ্যামলী আকবরের কথা। ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা যত্ন করেন, সচেতনভাবে তাদের জীবনের দিকে এগিয়ে দেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী অধ্যাপকের মতো অসুস্থ থাকলেও শ্রেণির পাঠদানে আসেন; ঠেকানো যায় না। ক্যানসারের প্রাথমিক স্তরের কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে, ক্লাস নিতে ভালো লাগে বলে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে সামান্য সুস্থ হয়ে শ্রেণিকক্ষে আসেন। তার মনোযোগ ও ভালোবাসা ছাত্র-ছাত্রীদের ভোলার নয়। তার, তাদের মতো হতে চান ভবিষ্যতের পানে থাকা তরুণ মানুষটি। এমফিল, পিএইচডির পর গবেষণায় জড়াবেন। আলাদা, বিশেষ উচ্চাশা নেই; ছোট, ছোট পরিকল্পনা, সামান্য কিন্তু অসামান্য- অল্প, অল্প অর্জনে আগের মতো ভবিষ্যতের ভিত গড়ছেন। ঘণ্টা দেড়েক মানে মোট ৭৫ মিনিটের শ্রেণিকক্ষের পাঠ তাকে তাই খুব মনোযোগ দিয়ে করতে হচ্ছে বরাবরের মতো। তবে বেদনা– ‘বিজ্ঞান অনুষদের শ্রেণিকক্ষগুলো ৫০ মিনিট; আমাদেরও তেমন যদি হতো।’ বাসায় ফিরে আজকের পড়া ভালোভাবে গোছাতে হয়। আইইআরের অবকাঠামোগতভাবে বেশ ভালো গ্রন্থাগারে সবার মতো, মনোযোগ বেশি বলে দরকারে, অ-দরকারেও যেতে হয় তাছনীমকে। খেয়াল করেছেন, সাম্প্রতিক ভালো ও শ্রেণিসংশ্লিষ্ট বইয়ের সংগ্রহ কম। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পুরনো বই বেশি। ফলে ইন্টারনেটে সাম্প্রতিক বইয়ের সাহায্য নিতে হয়। তবে উন্নত, ভালো মানের বই বিনে পয়সায় মেলে না। ছাত্রী, টাকা পাবেন কোথায় অত? তাই উন্নত বিশ্বের চেয়ে জ্ঞানে একটু একটু করে পিছিয়ে যাচ্ছেন। চেষ্টা করছেন ভালোভাবে বুঝে পড়ার।
আরও সাফল্য আছে তার জীবনে, পড়ার বাইরের ভুবনে। চমকে দেওয়ার মতো–চারটি শিক্ষাবর্ষ পর এবার প্রথম আইইআরে বার্ষিক ‘সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০১৯’ আয়োজন হলো। ১২টি একক বিভাগের লড়াই করেছেন প্রায় শখানেক ছাত্র ও ছাত্রী–প্রথম থেকে মাস্টাের্সর; তিনটি– ‘অবিরাম গল্প বলা’, ‘বারোয়ারি বিতর্ক’, ‘উপস্থিত বক্তৃতা’য় তিনি সবার ‘সেরা’। বাংলা ও ইংরেজি বিতর্কে দ্বিতীয়। ফলে চ্যাম্পিয়ন সবার মাঝে তাছনীম জানান। বাকি সাতটি বিভাগ ছিল–অভিনয়, নৃত্য, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি– একক, দেশাত্মবোধক, লোকগীতি ও আধুনিক গান। গড়ে ১০ জন প্রতিযোগী লড়েছেন প্রতিটিতে। ২১ থেকে ২৫তম ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীদের এই আসরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের অধ্যাপকরা বিচারক ছিলেন। তাদের চূড়ান্ত ও পক্ষপাতহীন বিচারে খুশি তাছনীম। তিন লাইনের এক গল্প শুরু করে দিয়েছিলেন বিচারক। ধীরে ধীরে টেনে, বাঁক রেখে এগিয়ে নিতে হয়েছে তাদের প্রত্যেককে। আড়াই থেকে তিন মিনিট পেয়েছেন এক, একজন। অনেক বছর পর আইইআরে এলাম, পুরনো এক বান্ধবী, সহপাঠীর সঙ্গে দেখা হঠাৎ। তাকে জীবনের প্রতিষ্ঠার গল্প করতে থাকলাম– শুরু। তাছনীম বলেছেন ছয় কী সাত নম্বরে–বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তিনি ভাবছেন, কীভাবে নিজের সম্পর্কে এত এত মিথ্যা কথা বলতে পারলেন। সেই গল্প বলার আসর ছিল শেষ লড়াই। তাতে ভালো করেছেন আগের পড়া, বিতর্কের যুক্তি, বলার দক্ষতা ও সবার সামনে দাঁড়ানোর ক্ষমতায়। উপস্থিত, বারোয়ারি, ইংরেজি, বাংলা বিতর্কও তাই।
ঢাকার মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উচ্চ বিদ্যালয় শাখার ছাত্রীটির সপ্তম শ্রেণি থেকে দলগত বিতর্কের শুরু, বিদ্যালয় দলে। মৌলভীবাজারের ফ্লাওয়ার্স কেজি অ্যান্ড হাই স্কুলে নবম শ্রেণিতে বিদ্যালেয়র শ্রেষ্ঠ বক্তা– ২০০৯ সালে; বিদ্যালয়টি পুরো সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে প্রতি বছর দ্বিতীয়, তৃতীয় হয়। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বছর, বছর দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হয়। ২০১২ সালে বিদ্যালয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় ‘সপ্তম’– সারা দেশে, বাংলা বিতর্কে, হাসিমুখে বলেন। জীবনে মোট নয়টি বিদ্যালয় বদলাতে হয়েছে। ভাঙা বছরের ছাত্রী হয়ে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া শিখতে হয়েছে। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা’য় পড়ার সময় কলেজ বিতর্কে প্রথম ২০১৩ সালে; তখন দ্বিতীয় বর্ষে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রথম বর্ষে ডিইউডিএসে (ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি) বিতর্কের ক্লাস করেছেন। সময়ে মিলত না বলে ছাড়তে হয়েছে। সেসব অভিজ্ঞতায়, নিজের অনুশীলনে বিভাগের ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের ব্যানারে দুবার আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার সংগঠক, একবার স্পিকার ছিলেন। অভিজ্ঞতায় বলেন, ‘নিয়মিত করতে পারলে ক্ষুরধার বিতর্ক করা সম্ভব। আনুষ্ঠানিক অনুশীলনের ক্ষতি পোষানোর চেষ্টা করেছি বন্ধুদের আড্ডায়, জীবনে যুক্তি দেওয়ার ও খণ্ডানোর চর্চায়।’ বারোয়ারি বিতর্ক নিয়ে বললেন, ‘এই বিতর্কের উপস্থাপন বিতর্কে যুক্তি দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত, প্রচুর পড়া, দেখায় তা সম্ভব।’ আফসোস তাছনীমের, ‘আইইআর প্রতি বছর বিতর্ক প্রতিযোগিতা করলে ভালো হতো। পেলাম শেষবেলা মাস্টার্সে! প্রতি বছর হলে আমরা বছর বছর অংশ নিতে পারতাম। সাফল্য সবার হতো।’ বিতর্ক চর্চার উপস্থিত শাখায় প্রথম তিনি। বাবা-মায়ের কথা প্রসঙ্গ ধরে জানালেন, ‘ছোটবেলা থেকে তাদের সাহায্যে আবৃত্তি করি, আবৃত্তির প্রতিযোগিতাতে অংশ নিচ্ছি। বিদ্যালয় থেকে আজ– কোথাও আবৃত্তির কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি, পুরস্কার জিতিনি–হয়নি। ২০১৩ সালে কলেজ বার্ষিক সাংস্কৃতিক সপ্তাহে বাংলা আবৃত্তিতে প্রথম; পরের বছর ইংরেজি আবৃত্তিতেও। চর্চার পাশে খেয়াল করে নতুন শব্দ শেখা, অভিধান খুলে অর্থ জেনে চর্চা; কবিতা পড়ে আত্মস্থ করে শুদ্ধ, সাবলীল ও মননে তুলে ধরা আবৃত্তিতে ভালো করায়। আমার ভালো লাগে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, হেলাল হাফিজ।’ মায়ের কথা বললেন– ‘‘কথা বলা যখন শুরু করেছি, তখন থেকে ঘুম পাড়ানি গানের বদলে কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। সে গড়ে দেওয়া পাথেয় হচ্ছে। ছোটবেলায় সুকুমার রায়ের কবিতা পড়ে শোনাতেন, সমগ্র থেকে; বাবা আরও বড় হওয়ার পর ‘নির্বাচিত নজরুল শিশু সাহিত্য’ কিনে দিলেন, সেই বয়সে পৌঁছানোর পর বোন ফাতিহা জাহান তানোঈম পেল ‘নির্বাচিত রবীন্দ্র শিশু সাহিত্য’।” তিনি তার চার বছরের ছোট। ভালোবাসা খুব। বাংলার চেয়ে ইংরেজি কবিতাই এখন ভালো লাগে। বিভাগের পড়ায় অনেক ইংরেজি আছে । পড়ে বুঝেছেন, অ্যাডগার অ্যালান পো’র কবিতা সহজ, আধুনিক; যুগের উপযোগী।