নীলফামারীতে তামাক প্রক্রিয়াকরণ কারখানার ঝাঁজালো পরিবেশে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে একটি বিদ্যালয়ের ৪০০ শিশুশিক্ষার্থী। পাশাপাশি বিঘিœত হচ্ছে এসব শিক্ষার্থীর লেখাপড়া। এমনকি নির্গত ওই ঝাঁজে বাজারের আশপাশের এলাকার জনসাধারণও রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
জেলা সদরের পলাশবাড়ি বাজারে সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় ঘেঁষে তামাক প্রক্রিয়াকরণ কলটি স্থাপন করে সারা বছর সেখানে বিড়ি ও গুল কোম্পানির জন্য তামাক প্রক্রিয়া করেন ওই এলাকার দীপু সরকার।
সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী চৈতি সরকার বলে, ‘বাতাসের সঙ্গে তামাকের ধুলা আসে। ওই ধুলায় আমাদের কাশি হয়, বমি হয়, ক্লাসে বসে থাকতে পারি না। অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ি, ক্লাস ছেড়ে বাড়ি চলে যেতে হয় প্রায় দিনই। স্কুলে আসতে মন চায় না।’
শিক্ষার্থী নূপুর রায় বলেন বলে, আমাদের খুব কষ্ট হয় শ্বাস নিতে, ঝাঁজ লাগে, শ্বাস আটকে যায়। তামাকের গন্ধে ক্লাস করতে পারি না আমরা। স্কুল থেকে বাড়িতে গিয়ে খাওয়ার রুচি থাকে না।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক পূরবী মোহন্ত বলেন, ‘কল থেকে নির্গত ধুলায় শিশুদের পাশাপাশি আমাদেরও সমস্যা হয়। ঝাঁজে হাঁচি-কাশি শুরু হয়। প্রায় দিনই কেউ না কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ি। ক্লাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’
অপর শিক্ষক আবদুল মতিন বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত। আর তামাক প্রক্রিয়ার কলটি স্থাপন করা হয়েছে দুই বছর আগে। সেটি স্থাপনের পর থেকে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। অসুবিধার কথা দীপু সরকারকে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি আমাদের কোনো কথাই রাখেননি; বরং এখন দিনরাত সমানতালে কল চালাচ্ছেন।’
সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ চঞ্চল চ্যাটার্জি বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ৪০০ শিক্ষার্থী। ২০০৯ সাল থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ পাস করেছে। ২০১৮ সালে ওই পরীক্ষায় ৫৫ জনের মধ্যে ৩৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। এবারও ৫৫ জন সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে। ভালো ফলাফলের আশা করছি আমরা। কিন্তু দুই বছর ধরে ওই তামাক প্রক্রিয়া কলের ঝাঁজালো ধুলায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।’
এলাকাবাসীর মতে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পরিবেশ দপ্তরের কোনো ধরনের ছাড়পত্র ছাড়াই দুই বছর আগে তামাক প্রক্রিয়াকরণ কলটি স্থাপন করেন দীপু সরকার। সেই কলের ঝাঁজালো বিষাক্ত ধুলায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ এলাকাবাসী প্রতিদিনই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
কারখানাটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা দীপু সরকারের কাকা হরলাল সরকার বলেন, ‘ওই কলে সারা বছর বিড়ি এবং গুল কোম্পানির জন্য তামাক প্রক্রিয়া করা হয়। এটাতে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।’ পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটি নেওয়া হয়নি। আর এটির প্রয়োজনও নেই।’
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আবদুল মোতালেব সরকার বলেন, ‘ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’