মহান বিজয় দিবসের দিনে জনগণের ঐক্যের ডাক দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জনগণ বিভক্ত থাকলে শোষক ও দুর্নীতিবাজরা সুযোগ পেয়ে যায়।
সোমবার সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
স্বাধীনতাকে বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জন আখ্যা দিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘এই স্বাধীনতা এসেছিল জনগণের ঐক্যের শক্তিতে। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে এখনো সেই ঐক্য প্রয়োজন।’
বিভক্তির রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি বিভক্ত হয়ে থাকি, তাহলে যারা শোষণ করতে চায়, দুর্নীতি করতে চায়, তারা সুযোগ পেয়ে যায়। এগুলোকে মোকাবেলা করতে হলে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন।’
ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, ‘একাত্তরে সারা পৃথিবী বলেছে- বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পারবে না, আমরা সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলাম। এখন যেটা হচ্ছে, আমাদের অনেক রকম সমস্যা আছে, এগুলো মোকাবেলা করার জন্য সুষ্ঠু রাজনীতির প্রয়োজন আছে।’
তিনি বলেন, ‘একাত্তরে অসম্ভবকে আমরা সম্ভব করেছিলাম, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পূর্বশর্ত হলো ঐক্য, জনগণের ঐক্য। আর বিভক্তির রাজনীতি যদি হয়, তখন কিন্তু মানুষের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়।’
গণতন্ত্রে বাংলাদেশ কতদূর এগিয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ড. কামাল বলেন, সংবিধানের চার মূলনীতির মধ্যে গণতন্ত্র এক নম্বর মূলনীতি। সেটা কার্যকর করতে হলে দরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, কিন্তু সেটা হচ্ছে না।
এ সময় রাজাকার তালিকা প্রকাশ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘৫০ বছর পরে কেন? এ সরকার তো ১০ বছর ধরে আছে। এতদিন কী হলো? মানে এ ১০ বছরে কেন এটা সম্ভব হলো না?’
তিনি বলেন, বলেন, ‘যারা এই জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের দোষী হিসেবে চিহ্নিত করে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’