মহান বিজয় দিবসের দিন মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা উত্তোলন করা জাতীয় পতাকা নামিয়ে প্রধান অতিথিকে দিয়ে উত্তোলন করে জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার বিজয় দিবসের দিন সকাল সাতটায় উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় গ্রামবাসী এই ঘটনার প্রতিবাদ করে তাৎক্ষণিক ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল লিটনকে মারধর করে আহত করেছে। এই ঘটনার পর ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিজয় দিবসের আলোচনা সভাতেও এ বিষয়টি তদন্ত করার দাবি উঠলে ঘটনাটি তদন্ত করবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব রায়হান।
সংবাদ সম্মেলনে চরমিরকামারি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মুন্তাজ আলী বিশ্বাস, আবুল মুনছুর খান, ডাবলু বিশ্বাস ও জাকাত আলী বলেন, এলাকার স্কুলে আমন্ত্রিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
এসময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল লিটন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের দায়িত্ব দিয়ে শহরে আওয়ামীলীগের বিজয় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে যান। শোভাযাত্রা শেষে তিনি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টুকে নিয়ে স্কুলে যান।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তোলন করা জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফের প্রধান অতিথিকে দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে দেখে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হন। তারা জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করার দায়ে অভিযুক্ত করে প্রধান শিক্ষককে গণ পিটুনি দেন। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় প্রধান অতিথি স্কুল ত্যাগ করেন।
এদিকে সোমবার বিকেলে আহত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল লিটন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তাহাজ উদ্দিন সরদার, শিক্ষক-অভিভাবক সভাপতি আব্দুল করিম, সদস্য মনোয়ার হোসেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
তারা অভিযোগ করে বলেন, সাবেক এমপি মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসকে প্রধান অতিথি না করার কারণে তার লোকজন বিজয় দিবসের দিন স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মারধর ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন, তারা এই ঘটনার বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করবেন বলে জানান।