যে কোনো দিন খালেদা জিয়ার অঙ্গহানি ঘটতে পারে, স্বজনদের আশঙ্কা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অঙ্গহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার স্বজনরা।

খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণহীন উল্লেখ করে তার এক স্বজন সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, এভাবে দীর্ঘদিন ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণহীন থাকলে যে কোনো দিন তার যে কোনো অঙ্গহানি ঘটতে পারে। এমনকি শরীরে পচন ধরতে পারে।’

বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সন্ধ্যায় এ আশঙ্কার কথা জানান খালেদার ওই স্বজন।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণে নেই। চিকিৎসার পরও সুগার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। খালি পেটে ১২ এর নিচে কোনো দিনই নামেনি। আজকে (সোমবার) খালি পেটে তার সুগার ছিল ১৪/১৫।’

নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিকসের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউ’র মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক জিলন মিয়া সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দেড়টায় খালেদা জিয়ার ব্লাড সুগার ছিল ১২.৩। আগে তো ২২/২৪ উঠত। ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ালে নিয়ন্ত্রণে আসত। ওনাকে ১৪ ইউনিট ইনসুলিন দেয়া হয়।’

নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিকস কি ধরনের ক্ষতি করতে পারে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডায়াবেটিকসকে বলা হয় নীরব ঘাতক। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে একজন রোগী ধীরে ধীরে কঠিন পরিণতির দিকে চলে যায়। নেত্রীর নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিকসের কারণে যে কোনো সময় যে কোনো অঘটন ঘটে যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের যে কেবিনে তাকে রাখা হয়েছে তা ছোট্ট একটি কক্ষ। খোলা জায়গা নেই। অন্যের সাহায্য ছাড়া তিনি চলতে পারেন না। তাই তাকে নিয়ে কেউ হাঁটবে তাও সম্ভব নয়।’ 

সোমবার বিকেলে বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে তার বোন সেলিমা ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ আদালতে খালেদা জিয়ার যে শারীরিক অবস্থার রিপোর্ট দিয়েছে তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। হাসপাতালে তার ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না। এভাবে সে কীভাবে বাঁচবেন।’

খালেদা জিয়া জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘ওনার বয়স, অসুস্থতা বিবেচনা করে জামিন দেওয়া উচিত ছিল। জামিন মানে তো ছেড়ে দেওয়া না। জামিন তো দিতেই পারত। জামিন না দেওয়ার বিষয়টি নজিরবিহীন।

দীর্ঘ এক মাস পর এদিন বিকেল তিনটায় পরিবারের সদস্যরা বিএসএমএমইউতে আসেন। দেড় ঘণ্টা সাক্ষাৎ শেষে তারা বেরিয়ে আসেন। এ সময় বোন সেলিমা ইসলাম ছাড়াও ছিলেন তার স্বামী রফিকুল ইসলাম, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা এবং শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভিক এস্কান্দার।

গত ১ এপ্রিল থেকে খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউর ৬২১নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সাজা দেয়। সেদিনই তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।