রাজধানীর সড়কে ইট-সিমেন্ট রাখার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু শুক্রবার

রাজধানীতে যেখানে-সেখানে ইট, বালু, পাথর, সিমেন্ট রাখলে শাস্তি পেতে  হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। 

তিনি বলেছেন, ‘রাজধানীর পরিবেশ দূষণ করে যারা সড়কে ইট, বালু, পাথর, সিমেন্ট রাখবেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে ২০ ডিসেম্বর (শুক্রবার) থেকে’। 

তিনি বলেন, এ ছাড়া যারা ব্যবসা, বাণিজ্য ও নির্মাণ কাজ পরিচালনা করবেন তাদের অবশ্যেই কমপ্লায়েন্স মেনে চলতে হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) আয়োজনে ‘অনিয়ন্ত্রিত দূষণে ঢাকা: নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক তিনি এসব বলেন।

মেয়র বলেন, ‘ইতিমধ্যে অভিযান পরিচালনার জন্য আমরা সরকারের কাছে আরো ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছি। যারা পরিবেশ দূষণ করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করছেন তাদের বলতে চাই, আপনারা এমন ব্যবসা বন্ধ করে দিন। এ ছাড়া কমপ্লায়েন্স না মেনে উন্নয়ন কাজ করলেও তাকে জরিমানার আওতায় আনা হবে। যদি আমরা যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি তাহলেই কিন্তু শহরটা আমরা নিরাপদ করতে পারি।’

তিনি আরো বলেন, রাজউক, ওয়াসা, পিডিপিসহ সিটি কর্পোরেশনের কন্ট্রাক্টরা যারা রাস্তা খোঁড়ার কাজ করছেন, তারা অবশ্যই কমপ্লায়েন্সের মাধ্যমে কাজ করুন, অন্যথায় জরিমানা করা হবে। যদিও আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে তা নিয়েই আমাদের কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে। আনিসুল হক আমাদের তেমনটাই দেখিয়ে গেছেন। 

গোলটেবিল বৈঠকে নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘পরিবেশ দূষণের উৎসগুলো আপনি বের করুন। দূষণ রোধে এই নেই, সেই নেই বলে লাভ নেই। যা আছে তা দিয়েই করুন। যারা দায়িত্বে অবহেলা করেন, ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন না তারা দায়িত্ব ছেড়ে দেন। আর যারা পারে তাদের কাছে দায়িত্ব দেন। কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয় সেটা কিন্তু প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক দেখিয়ে গেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘জরিমানা করার সঙ্গে সঙ্গে এখন এলিভেটর এক্সপ্রেস, মেট্রোরেল প্রকল্পের মাধ্যেম দূষণ হওয়া রোধে কাপড় দিয়ে ঢেকে কাজ করছে তারা। তাহলে গত দুবছর ধরে এটা করলেন না কেন? অবশ্যই সমন্বয়হীন কাজ বন্ধ করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে কোনো জনবান্ধবহীন কাজ বন্ধ করার দায়িত্ব মেয়রকে নিতে হবে।’

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘মেয়েরকে নিজের ক্ষমতার ব্যবহার করে এ দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।  উন্নয়ন করতে গিয়ে আমরা মরণ ফাঁদ তৈরি করেছি। উন্নয়নের আগে কিছু এসেসম্যান্ট করা প্রয়োজন। দূষণের কারণে জনগণ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় আমরা সব সময়ই ১ থেকে ৪ এর মধ্যে ছিলাম। এবারও আছি। ঢাকার বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ ঢাকার চারপাশের ইটভাটাগুলো। দ্বিতীয়ত গাড়ির ধোঁয়া। ঢাকার মধ্যেও কিছু কলকারখানা রয়েছে। এ ছাড়া গৃহস্থালির আবর্জনাও। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’ 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স এর সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

ডুরার সভাপতি মশিউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডুরা সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেল এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের(পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান প্রমুখ।