ব্রেক্সিট বিলম্ব রোধে জনসনের নতুন বিল

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচন জয় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি। জয় পাওয়ার পরই জনসন ব্রেক্সিট বিল রোধে পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করতে যাচ্ছেন। এই বিল পাস হলে ব্রেক্সিট ‘১১ মাস’ পেছানোর বিষয়টি খারিজ হয়ে যাবে। আয়ারল্যান্ডের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী এ বিলকে ইতিমধ্যেই ‘অদ্ভুত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

আইরিশ ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী সমনর কোভেনে বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে শর্তের মধ্যে নিজেকে আটকানোর চেষ্টা করছে।’ ইউরোপিয়ান কমিশনের বাণিজ্যবিষয়ক জেনারেল সাবিন ওয়েঅ্যান্ড বলেন, কোনো উচ্চাকা•ড়্গী চুক্তি করতে প্রয়োজনে পিছু হটতেও হয়।

৩১ জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার সময় যে জটিল সমস্যার সৃষ্টি হবে, তার সূত্রপাত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিচ্ছেদের ফলে যুক্তরাজ্য একক বাজার হিসেবে আবিভূ©ত হবে। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার সময় নির্দিষ্ট থাকবে যুক্তরাজের। এ সময়ের মধ্যেই উভয়পক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। জনসনের সরকার এ বিলটি পাস করতে বদ্ধপরিকর। কারণ অতীতের মতো সংকটে পড়তে চায় না দলটি। নতুন এই আইন হলে ব্রেক্সিট নিয়ে যত সমস্যাই থাকুক না কেন, এমনকি কোনো চুক্তি না হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট অনুষ্ঠিত করতে হবে যুক্তরাজ্যকে। আর এ নিয়েই আপত্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের। বিশেস্নষকরা বলছেন, জনসনের এমন সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে পারে। কারণ ব্রেক্সিট ইস্যুতে অতীতে কোনো ডেডলাইন ঠিক করে যুক্তরাজ্য কোনো ফলাফলে পৌঁছতে পারেনি।

কোভেনে আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্যকে কেউ অন্তর্বর্তীকালীন সময় বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে না। তাদের হাতে পর্যাপ্ত বিকল্প উপায় রয়েছে। জনসন যা করতে চাইছেন, তাতে সব বিকল্প নষ্ট হয়ে যাবে। এতে যুক্তরাজ্যকে কোনো চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে হতে পারে। এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো ডেডলাইন অতিক্রম করেনি ব্রেক্সিট ইস্যুতে। এ ঘটনা থেকে বরিস জনসনকে শিক্ষা নিতে বলছেন কোভেনে ও অন্য রাজনীতিকরা। ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের কণ্ঠেও কোভেনের সুর শোনা যায় সাম্প্রতিক ইউরোপিয়ান পলিসি সেন্টারে আয়োজিত বৈঠকে।

বিশেস্নষকরা মনে করছেন, যুক্তরাজ্যের এখন ব্রেক্সিট বিলম্ব সংক্রান্ত বিল পাসের চেয়ে বাণিজ্যচুক্তির প্রতি অধিক মনোযোগী হওয়া উচিত। কারণ ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্যে বাণিজ্য চুক্তিই হতে যাচ্ছে একমাত্র ইস্যু যা বেকায়দায় ফেলতে পারে কনজারভেটিভদের।