গ্রামপুলিশের দফাদারদের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৯তম গ্রেডে এবং মহল্লাদারদের ২০তম গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেয়। রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেল অনুসারে ২০১১ সালের ২ জুন থেকে তাদের বকেয়া বেতনভাতা পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী বছর ১৭ মার্চ মুজিববর্ষ শুরুর আগেই হাইকোর্টের এ নির্দেশ অনুসারে বেতনভাতা পরিশোধ করে আদালতে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দাখিল করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের পরিপ্রেড়্গিতে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের ওপর চ‚ড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় হলো। গত রবিবার এ রায় দেওয়া শুরু হয়। গতকাল রায় ঘোষণা শেষ হয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ারেস-আল-হারুনী।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, ২০০৮ সালে গ্রাম পুলিশদের জাতীয় বেতন স্কেলের চতুর্থ শ্রেণিতে অন্তভু©ক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ওই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১৭ সালে ৩৫৫ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ওই বছর ৩ ডিসেম্বর রুল জারি করে হাইকোর্ট। রুলে ২০০৮ সালের ওই সিদ্ধান্ত অনুসারে গ্রাম পুলিশদের চতুর্থ শ্রেণিতে অন্তভু©ক্তির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এরপর রুলের চ‚ড়ান্ত শুনানি শেষে রবিবার থেকে রায় ঘোষণা শুরু হয়। রায়ে আরও বলা হয়েছে, অবসর ভাতা প্রদানের ড়্গেত্রে নিজ নিজ এলাকার গ্রাম পুলিশ সদস্যদের যোগদানের তারিখ হতে এ ভাতা দেওয়ার দিন গণনা শুরু করতে হবে।
ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব দেশ রূপান্তরকে জানান, সারা দেশে ৪৬ হাজার ৮৮০ জন গ্রাম পুলিশ রয়েছে। এতদিন অর্থাভাবে তারা কষ্ট করেছে। তাদের শ্রম অনুযায়ী এতদিন পারিশ্রমিক পায়নি তারা। ৩৫৫ জন রিট আবেদন করলেও হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী সবাই এ সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, ‘এখন একজন দফাদার মাত্র ৭ হাজার টাকা ও মহল্লাদার সাড়ে ৬ হাজার টাকা বেতনভাতা পান। হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে এখন থেকে দফাদাররা ১৯তম গ্রেডে এবং মহল্লাদাররা ২০তম গ্রেডে বেতনভাতা পাবেন। আর ২০১১ সালের ২ জুন থেকে পাওনা যাবতীয় বকেয়াও তারা পাবেন।’