বগুড়ায় কৃষক সেজে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহের দায়ে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ১ মাস ও তার সহযোগীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কাহালু খাদ্য গুদামের এই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুদুর রহমান গতকাল বুধবার দুপুরে আসামিদের এই দণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সামছুদ্দোহা খান সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তার সহযোগী ইসমাইল হোসেন লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রয়াত মজিবর রহমানের ছেলে।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে কাহালু সদর খাদ্য গুদামে ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ধান কেনার ঘোষণা দেওয়া হয়। এজন্য লটারির মাধ্যমে ২ হাজার ৪০০ কৃষককে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে ১ টন করে ধান কেনা হবে। এর মধ্যে ২০০ জন কৃষককে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হবে। তালিকার কোনো কৃষক ধান সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে অপেক্ষমাণ তালিকার কৃষকরা তখন ধান সরবরাহ করবেন। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১৫৮ জন কৃষক ১৫৮ মেট্রিক টন ধান সরবরাহ করেছেন। এদিন বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা সামছুদ্দোহা ও তার সহযোগী ইসমাইল ২ টন ধান গুদামে নিয়ে যান এবং লটারিতে নির্বাচিত ২ জন কৃষকের নামে ধান সরবরাহের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে এসে তাদের আটক করে। এ সময় গুদামে নিয়ে আসা ধানও জব্দ করা হয়। কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, কৃষকরা যাতে নির্ভয়ে গুদামে ধান সরবরাহ করতে পারে সেজন্য এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। তালিকার বাইরে সিন্ডিকেট করে কেউ ধান সরবরাহ করতে পারবে না।