বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে একমত নন বোর্ডের পরিচালক ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন। পাপনের বিশ্বাস, দেশি কাউকে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ নেওয়ার সময় এখনো আসেনি। দক্ষতায় বিদেশিদের চেয়ে পিছিয়ে দেশিরা। বেশ আগে দেওয়া পাপনের ওই যুক্তি খণ্ডন করে গতকাল সুজন বলেছেন, ‘দক্ষতার দিক থেকে আমি মনে করি না আমরা কেউ পিছিয়ে আছি। আমাদের দক্ষতা আছে। আমরা সুযোগ পাচ্ছি না।’
দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বোলিং উপদেষ্টার প্রস্তাব পেয়ে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট চাকরি ছেড়েছেন। এখন নতুন কাউকে লাগবে। বাংলাদেশের কোচিং দল এখন খুব হাই প্রোফাইল। প্রধান কোচ দক্ষিণ আফ্রিকার রাসেল ডমিঙ্গো। স্বদেশি ল্যাঙ্গাভেল্ট ছিলেন। ফিজিও জুলিয়ান কালেফাতো, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক, সাদা বলের ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জিও রাসেলের দেশি। আছেন স্পিন বোলিং কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। বোর্ড সভাপতি পাপন মনে করেন, বিদেশিরাই বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্য আদর্শ।
এখন ল্যাঙ্গাভেল্টের জায়গায় নিজে সুযোগ পেলেও সেটা নিতে রাজি। এটাও মানছেন না মাত্র তিনটা সিরিজে দায়িত্ব পালন করা বোলিং কোচ চলে যাওয়ায় সমস্যা হবে, ‘ল্যাঙ্গাভেল্টের খুব বেশিদিন হয়নি আমাদের সঙ্গে। খুব যে বড় বেশি ধাক্কা, আমি বিশ্বাস করি না।’ তবে গতকাল চট্টগ্রামে তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মূল ইস্যু দাঁড়িয়ে গেল দেশি বনাম বিদেশি কোচ।
আগের সেই প্রসঙ্গ টেনে সুজন বলছিলেন, ‘পাপন ভাই কেন বলেছেন আমি জানি না। হতে পারে উনি হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন কাগজে-কলমে আমরা পিছিয়ে আছি। হতে পারে গেম প্ল্যানিংয়েও। কিন্তু আমাদের ছেলেরা যথেষ্ট ভালো কাজ করছে।’ সুজন নিজে শেষবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন এই বছরের বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরেও। কিন্তু তার যুক্তি, ‘একজন কোচকে একটা সিরিজ দিয়ে বিচার করতে পারেন না। একজন কোচ নিয়োগ দিয়ে তার ওপর বিশ্বাস রাখাটা খুব জরুরি এবং তাকে সে সময়টা দেওয়া উচিত।’
আগে এমনকি স্থায়ী প্রধান কোচ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন সুজন। এখন ল্যাঙ্গাভেল্টের জায়গায় কাজ করতে চান কি-না সে প্রসঙ্গ এলে অকপটে বললেন, ‘আমার পেশা তো কোচিং। আগ্রহের ব্যাপার অবশ্যই আছে। এর আগেও দুইবার আমি বাংলাদেশের হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। বলাই ছিল যে একটা সময়সীমার জন্য। তারপরও ধরেন যখন বাদ পড়ি, রেজাল্ট খারাপ হয় তখন খারাপ লাগে। আমি এর আগেও বলেছিলাম লম্বা সময়ের জন্য করলে ভালো। অল্প সময়ের জন্য করলে একটা সফরে দলটাকে গোছানো কঠিন।’
সুজনের বিশ্বাস, তরুণ কোচদের এবং বাংলাদেশি দক্ষ কোচদের জাতীয় দল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্মানজনক সুযোগ করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি, ‘বাংলাদেশে যারা ভালো কোচিং করাচ্ছে তাদের একটা সুযোগ এখন দেওয়া যেতেই পারে। বিসিবির উচিত স্থানীয় কোচদের তুলে এনে কাজের সুযোগ করে দেওয়া। সেটা জাতীয় দল হতে পারে, এইচপিতে হতে পারে।’ জুনিয়র দলের ব্যাপারেও একই মত তার।
দেশের বাইরের উদাহরণ টেনে বললেন, ‘পাশের দেশ শ্রীলঙ্কার অনেক কোচ বিদেশে কোচিং করাচ্ছে। পাকিস্তানে করছে। ভারতে তো করছেই। এখানে আমরা পিছিয়ে আছি। নিজের দেশেই কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি না। বাইরে কাজ করার সুযোগটা কীভাবে পাব আসলে?’