কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে কনের গায়েহলুদ!

ঘড়িতে সময় সন্ধ্যা ৬টা। ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে একদল তরুণ-তরুণীর হলুদ রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবিতে চোখ আটকে যাচ্ছে পথচারীদের। 

কী হচ্ছে সেখানে, জানার কৌতূহল সবারই। একটু-আধটু উঁকি দিয়ে দৃশ্যপট বোঝার চেষ্টায় মগ্ন সবাই। হ্যাঁ, ভুল নয়। এ তো গায়েহলুদের সাজসজ্জা!

ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এমন একটি আয়োজন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারই প্রথম। বাঁশের ডালা, কুলা, চালুন, মাটির সরা, ঘড়া ও মটকা দিয়ে রীতিমতো বিয়েবাড়ির আমেজ তৈরির মাধ্যমেই এগিয়ে চলছে অনুষ্ঠানের কাজ।

কনে বিলকিস জাহান রিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী। বিয়েতে সবার পক্ষেকনের বাড়িতে যাওয়া সম্ভব নয়, এমন ধারণা থেকেই ভিন্নধর্মী এই আয়োজন করেছে রিমার সহপাঠীরা।

জানা গেছে, বর বা কনের পরিবারের লোকজন কেউ এ আয়োজন করেনি। আয়োজকদের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানে রিমার সহপাঠীরা ছাড়াও বিভাগের জুনিয়র-সিনিয়ররাও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনা রীতিমতো সাড়া ফেলেছে পুরো ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাধিক চর্চিত খবর এখন এটি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়োজকদের শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসাচ্ছেন অনেকেই।

কেউ কেউ ইচ্ছা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তিনি বা তারাও পরিবারের সম্মতি নিয়ে ক্যাম্পাসে এমন একটি গায়েহলুদের আয়োজন করবেন।

ভিন্নধর্মী এই আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা রিমার বান্ধবী শাম্মী আক্তার বীথি জানান, ‌বান্ধবীর ভবিষ্যৎ দাম্পত্য জীবনে সবার শুভকামনা জানানোই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল।

আরেক বান্ধবী তিশা চাকমা বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথম কারও গায়েহলুদের আয়োজন হচ্ছে। আমরা আনন্দিত। বান্ধবীর জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।’

এ ঘটনায় কনে রিমা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে। ক্যাম্পাসে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান হবে কখনো ভাবিনি। আমি অনেক বেশি আনন্দিত। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

বর আকরাম হোসেন খান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বর ও কনে দুজনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। উভয়ের পরিবারের সদস্যদের সম্মতিক্রমেই বিয়েটি ঠিক হয়েছে। বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ জানুয়ারি।