জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ কর্মী আল সাদিক হৃদয়ের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক সাংবাদিকও হৃদয়ের বিরুদ্ধে তার ওপর হামলাচেষ্টার অভিযোগ দেন। গত বছর ২২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে কনসার্ট চলাকালে ছাত্রলীগের দুপক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং একই বছর ৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে রাব্বি মিয়া নামে এক ঘোড়ার গাড়ি চালককে মারধর করার অভিযোগে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয়কে ওই বছর ৬ নভেম্বর সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
ফার্মাসি বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের ওই ছাত্রী জানান, গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে কয়েকজন বান্ধবীসহ ক্যাম্পাসে ঘুরতে এলে সমাজবিজ্ঞানের ১১তম ব্যাচের ছাত্র হৃদয় তাকে ক্যাম্পাসের শান্ত চত্বরে ডেকে পাঠায়। না গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আর বলে, এসব আমি করতেই থাকব। ভালো না লাগলে ক্যাম্পাসে আসবা না। এরপর তাকে ও তার বান্ধবীদের উত্ত্যক্ত করতে করতে বাসার কাছাকাছি যায়। দীর্ঘদিন ধরে সাদিক তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল জানিয়ে তিনি আরও জানান, রাজি না হওয়ায় বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি করত। ক্যাম্পাসে এলে আশপাশে ঘুরত। বিভিন্নজনের মাধ্যমে ডেকে পাঠাত। সাড়া না দিলে নিজেই গিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দিত। এদিকে গত ১৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করে সাদিক। তাৎক্ষণিক বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে একটি পত্রিকার সাংবাদিককের ওপর বন্ধুদের নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। সাদিক বলেন, টিএসসিতে আমরা সবসময় যাতায়াত করি চা খাই। তবে চাঁদাবাজি করি না। ১৩ ডিসেম্বর ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি স্বীকার করে তিনি বলেন, তার শরীরে আমাদের মোটরসাইকেল লেগেছে; তাই আমি ৭-৮ বার সরি বলছি। কিন্তু ১৬ তারিখের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।