দুর্নীতির খবর করায় পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে কক্সবাজার বাণী পত্রিকার সম্পাদককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শুধু মামলা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করছেন টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস ও সাবেক ওসি ফারিদ উদ্দিন খন্দকার।

ফরিদুল মোস্তফা খান নামের ওই সাংবাদিককে বিনা ওয়ারেন্টে ঢাকা থেকে ধরে নিয়ে টেকনাফ থানায় তিন দিন আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের পর মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয় অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদুল মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা আক্তার এসব অভিযোগ করেন।

হাসিনা আক্তার জানান, তার স্বামী একজন সাংবাদিক হিসেবে বিভিন্ন সময় টেকনাফ থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এ কারণে তাকে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসা থেকে ধরে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার স্বামী ফরিদুল বর্তমানে কারাগারের মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন। তার চোখে মরিচের গুঁড়া দিয়ে নির্যাতন করায় দুটি চোখই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া তার হাত-পা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার এক চোখ একেবারে অকেজো হয়ে যেতে পারে।

হাসিনা আক্তার আরও বলেন, কক্সবাজারে থাকা অবস্থায় পুলিশের নানা হয়রানির বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশি হয়রানি থেকে রেহাই পেতে কক্সবাজার ছেড়ে ঢাকায় এসে থাকতেন ফরিদুল। এ সুযোগে টেকনাফ থানা-পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে মোস্তফার আত্মীয়স্বজনদের হয়রানি করে। বর্তমানেও এ হয়রানি অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদুল মোস্তফার মেয়ে সুমাইয়া মোস্তফা খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, পুলিশের ভয়ে নিজ বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাসায় থাকছি। বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের নির্যাতনের বিষয় সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের কাছে দাবি জানান সুমাইয়া।