রাজাকারের তালিকা পুরো জাতিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে মন্তব্য করে এ তালিকা প্রত্যাহারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)।
দলটির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেন, ‘এই তালিকার তথ্য-উপাত্ত দেখে মনে হয়েছে প্রথমেই এটি গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এটা সারা জাতির মধ্যে দ্বিধা ও কনফিউশন সৃষ্টি করেছে। আমরা চেয়েছিলাম তালিকাটা প্রত্যাহার করলে ভালো হয়। প্রধানমন্ত্রী রাজাকার তালিকা প্রত্যাহার করতে বলেছেন। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। রাজাকার তালিকা প্রত্যাহার করে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতিকে বিব্রতকর অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করার আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা উচিত। রাজাকারের তালিকা যেন হয় তথ্যভিত্তিক। কোনো রকম ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত এবং দলগত স্বার্থ বিবেচনায় যেন রাজাকারের তালিকা করা না হয়। এই তালিকা যেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ঐতিহাসিক দলিল হয়।
জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতা মিজানুল ইসলাম লিটু ও নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে দলটির প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী জাপার চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে (জাপা) যোগ দেন। এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জি এম কাদের বলেন, সামনে জাতীয় পার্টির সুদিন অপেক্ষা করছে। অনেক রাজনৈতিক দলের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নেই। অনেক দলই নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগছে, হতাশা বিরাজ করছে সেসব দলের নেতাকর্মীদের মাঝে। এমন বাস্তবতায় বিকল্প শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। তাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এখন জাতীয় পার্টিতে যোগদান করছেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল শুভ রায়, এস এম ফয়সল চিশতী, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি লিয়াকত হোসেন খোকা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।