মুশফিকুর রহিমের বিরাট এক আক্ষেপ আছে। তা লুকানো নয়। বিপিএলে কখনো তার দল চ্যাম্পিয়ন হয়নি। গতকাল বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের একমাত্র দল হিসেবে সেই মুশফিকের খুলনা টাইগার্স তুলে নিল প্রথম তিন ম্যাচে টানা জয় এবং তারা জিতছে প্রতিপক্ষকে তেমন পাত্তা না দিয়ে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকালকের প্রথম ম্যাচে রংপুর রেঞ্জার্সকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে। ৪৫ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয় তাদের। এখন প্রশ্ন, এই খুলনাকে রুখবে কে?
মুশফিকের আরেকটা ঝামেলা আছে। বিপিএলে হয়ে থাকে। টুর্নামেন্টের মাঝপথে কখনো নেতৃত্ব ছেড়ে দেন। কখনো মালিক পক্ষের সঙ্গে ঝামেলা হয়ে যায়। সবই হয় আসলে দলটা দল হিসেবে পারফর্ম করতে না পারায়। বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ও তিন সংস্করণের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকের দল এবার কি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বাস্তবসম্মত স্বপ্নটা দেখতে পারে?
গেল দুপুরে ম্যাচের সেরা শফিউল ইসলাম ৪ ওভারে ১ মেডেন দিয়ে ২১ রানে ৩ উইকেট নিলেন। পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির শুরুর ওভারে মার খেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষে ৪ ওভারে ২৪ রানে ২ উইকেট নিয়ে শেষ করেন। ২ উইকেট ডানহাতি পেসার শহিদুল ইসলামেরও। মোহাম্মদ নাঈম শেখ অন্য প্রান্তে উইকেট পতন দেখতে দেখতেও ৩২ বলে ৪৯ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেছেন। বিপর্যয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ২টি ছক্কা ও ৫টি চার মেরেছেন। ফজলে মাহমুদ রাব্বি ৩৩ বলে ৪২ রানের ইনিংস দিয়েছেন। ইংলিশ লুইস গ্রেগরির অবদান ২২।
কিন্তু খুলনার বোলাররা কখনো স্বস্তি দেননি প্রতিপক্ষকে। রানপ্রসবা চট্টগ্রামের উইকেটে টস হেরে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৭ রানে থামে। গেলবারের বিপিএলে ১ সেঞ্চুরি ও ৫ ফিফটিতে আগুন হয়ে জ্বলে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান করেছিলেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলা দক্ষিণ আফ্রিকান রাইলি রুশো। এই কন্ডিশনে দারুণ মানিয়ে নেন। এবার অপরাজিত ৬৪, ৪২-এর পর হার না মানা ৬৬। ৩১ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় এমন দোর্দণ্ড প্রতাপ দেখালেন যে প্রতিপক্ষ বোলারদের নাভিশ্বাস উঠল। ২২ বলে ৪ ছয় ও ১ চারে আফগান ওপেনার রহমতউল্লাহ গুরবাজ ৩৭ রানের মারকুটে ইনিংসে শুরুটা করেছিলেন। রুশোর সঙ্গে ২৭ বলে ৬১ রানের জুটি তার। মুশফিক এসে রুশোর সঙ্গে ৩৫ বলে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপে জয়কে আরও সহজ করেছেন। ১২.৩ ওভারে ২ উইকেটে ১৩৮ তুলে তাই অনায়াস জয়।
খুলনার ব্যাটসম্যানরা আরও প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেলেন দেশের দুই সেলিব্রেটি বোলার মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদকে নিয়ে। তাসকিন আগের ম্যাচে বাদ পড়েছিলেন। এবার প্রথম ওভারে দিলেন ১৯। বেধড়ক পিটুনি খেয়েই চলেছেন ‘ফিজ’। ১টি উইকেট নিলেও ২ ওভারে দিয়েছেন ১৮। তাসকিন ৩ ওভারে ৩৯। নবীন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ৩ ওভারে ২৮ রানে। প্রতিপক্ষের তিন পেসার যখন উড়িয়ে দিয়েছেন তাদের তখন তারা তিনজন মার খেয়ে ভূত। খুলনা বড় বেশি দাপুটে এই আসরে। চার ম্যাচ খেলে চার হারে তলানিতে রংপুর।
ঢাকায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মতো শক্ত দলকে উড়িয়ে দিয়ে মুশফিকদের শুরু। ১২ ডিসেম্বরের সে খেলায় জিতেছিল ৮ উইকেটে, ৩৭ বল হাতে রেখে। এরপর ৫ দিনের বিশ্রাম শেষে চট্টগ্রামে ছিল দ্বিতীয় ম্যাচ। যেটি হাই স্কোরিং এবং মুশফিকুর রহিমের ৫১ বলে ৯৬ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংসে ভাস্বর। রাজশাহী রয়্যালসের দেওয়া ১৯০ রানের টার্গেট কখনো কঠিন হতে না দিয়ে জিতেছিল ৫ উইকেটে। আবার দুদিনের বিরতির পর খুলনার এই দাপুটে জয়।
চট্টগ্রাম ও রাজশাহী শক্ত দল। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে মাহমুদউল্লাহর চট্টগ্রাম। তাদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে খুলনা। খাতা-কলমে সবচেয়ে হাই প্রোফাইল দলটির সঙ্গে অবশ্য এখনো দেখা হয়নি তাদের। চট্টগ্রাম পর্বে তাদের আর দুটি ম্যাচ। আজই সিলেট থান্ডারের সঙ্গে প্রথম দেখা, ২৩ ডিসেম্বর রাজশাহীর সঙ্গে ফিরতি লড়াই। ঢাকার সঙ্গে ম্যাচ দুটি বেশ দেরি আছে। যথাক্রমে ৩ ও ১০ জানুয়ারি।
প্রশ্ন হলো, খুলনাকে রুখবে কে? খেলার শেষে রুশো মনে করিয়ে দিয়ে গেলেন, এটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট যেখানে এমন ধারাবাহিকতা লম্বা সময় ধরে রাখা খুব কঠিন। সেই কঠিন কাজটা কতদিন করে যেতে পারবে খুলনা?