স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকং নিয়ে গত ছয় মাস ধরে বেশ অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছে চীন। এই অস্বস্তি আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে আরেক স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তাইওয়ান। অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসতে চাইছেন, যা চীনের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা।
তাইওয়ানে পেইচিংপন্থি কুয়োমিংনতাং (কেএমটি) পার্টির প্রার্থী হান কুয়ো ইউর একমাত্র শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ৬৩ বছর বয়সী সাই। গত বছরের স্থানীয় নির্বাচনে সাই আকাশচুম্বী জয় পেলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় তাকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। কারণ চীন নিজ ক্ষমতার বলয় থেকে তাইওয়ানকে হারাতে চাইছে না। তাই আগামী ১১ জানুয়ারির ভোটের আগেই সাইকে বড় ধাক্কা দিতে চাইছে পেইচিং।
ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়াং ইয়ে লিহ এএফপিকে বলেন, ‘ভোটের হিসাবে চীনবিরোধী অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সাইয়ের পার্টি তাই সেøাগান দিচ্ছেÑ চীনকে প্রতিহত করুন, তাইওয়ানকে রক্ষা করুন। হানকে এখানে সবাই পেইচিংপন্থি হিসেবেই চেনে। হানকে ভোট দিলে তাইওয়ানের পরিস্থিতি বর্তমানের হংকংয়ের মতো হবে, এমন বক্তব্য প্রচার করছে সাইয়ের দল।’
তাইওয়ানের জনগণ খুব কাছ থেকে হংকংয়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। হংকং কীভাবে চীনা শাসনের অধীনে শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে উঠছে, এই অভিজ্ঞতা রয়েছে তাইওয়ানের জনগণের। ১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধের পর থেকেই তাইওয়ান ডি ফ্যাক্টো সার্বভৌমত্ব ভোগ করে আসছে। কিন্তু চীন এখনো তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখ- দাবি করে। প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে তারা পুনরেত্রীকরণ চায়। কিন্তু হংকংয়ের মতো তাইওয়ানের জনগণও এক দেশ দুই নীতি চান না। ভোট নিয়ে অধিকাংশ জনমত জরিপেই এগিয়ে আছেন সাই। কিন্তু মাত্র এক বছর আগেও এই চিত্র ভিন্ন ছিল। সাইয়ের ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) স্থানীয় নির্বাচনে জয় পেলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ওই একই নির্বাচনে ডিপিপির হার্টল্যান্ড বলে পরিচিত কাওসিউঙ থেকে মেয়র হন হান। সমলেঙ্গিকদের বিয়ে ও পেনশন সংস্কার প্রশ্নে সাই কিছুটা নেতিবাচক অবস্থানে থাকলেও ১২ মাসের মধ্যেই আবার শীর্ষে চলে আসেন তিনি।
তাইওয়ানকে নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বক্তব্য দেওয়ার পরেই মূলত সাইয়ের রেটিং বাড়তে শুরু করে। কারণ, তাইওয়ানে সাই-ই একমাত্র রাজনীতিক যিনি প্রকাশ্যে চীনা নীতির বিরোধিতা করার সাহস রাখেন। তাই তাইওয়ানের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চীনের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।