শিশুসন্তানের সামনে ননদ-ভাবি ধর্ষণের শিকার

মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে স্বামীর সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফেরার পথে তিন বছরের শিশু সন্তানের সামনেই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক মা (২৪)। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ননদ গৃহবধূ (২৮) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে দেওরাছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে দল বেঁধে এই ধর্ষণের হোতা সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ইউসুফসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

এদিকে শনিবার বিকেলে ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর (ননদ) স্বামী আল আমিন বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে গ্রেপ্তারদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই দুই গৃহবধূ সম্পর্কে ননদ-ভাবি। একটি মারামারির মামলায় মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন ওই নারীর স্বামী। নিজের শিশু সন্তান ও ননদকে সঙ্গে নিয়ে বন্দি স্বামীকে দেখতে গত শুক্রবার রাতে কারাগারে যান তিনি।

স্বামী ও ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে বিক্রমকলস গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে শহরের পৌর পার্ক থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন ওই ননদ-ভাবি। অটোরিকশাটি শহর থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর দুই যাত্রী তোলেন চালক। এ ঘটনায় ওই দুই নারী বাধা দিলেও তাদের কথা কানে তোলেনি ওই চালক।

তিনি জানান, যাত্রীরা তার পরিচিত। সামনে গেলেই তারা নেমে যাবে। কিন্তু দেওরাছড়া চা বাগান এলাকার নির্জন জায়গায় আসা মাত্র অটোরিকশা থেকে দুই নারীকে নামানো হয়। পরে চালক, দুই যাত্রী ও সেখানে আগে থেকেই ওঁৎপেতে থাকা আরও ৭-৮ জন ওই ননদ-ভাবিকে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষকরা ওই নারীর তিন বছর বয়সী শিশুটিকে মারধর করে।

একপর্যায়ে প্রাণহানির ভয়ে অভিনব এক কৌশলের আশ্রয় নেন ওই দুই নারী। এ সময় তারা চালকের সঙ্গে আপস করার অজুহাতে তাদের দুজনকে বাড়িতে দিয়ে আসার কথা বলে। এ ঘটনায় তাদের কোনো ধরনের ক্ষোভও নেই বলে জানানো হয়। তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে তাদের দুজনকে বাড়ি দিয়ে আসার জন্য মুন্সীবাজারের উদ্দেশে রওনা হয় অভিযুক্ত চালক।

পথে স্থানীয় রহিমপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবদুল মজিদ খানের দোকানের সামনে পৌঁছে জরুরি কাজের কথা বলে অটোরিকশা থেকে নেমে যান একজন। পরে আশপাশের লোকজনকে দেখে চিৎকার শুরু করায় অটোরিকশা রেখে পালিয়ে যায় ওই চালক। পরে রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে তাদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তিনটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দসহ ও অভিযুক্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের ছয়টি টিম। গ্রেপ্তাররা হলো আলমগীর হোসেন (২৫), রুবেল মিয়া (২৭), ইউসুফ আলী (৩৫), মো. সলিম মিয়া (২৬), রবিলাল উরাং (২০), বিকাশ মুন্ডা (২৩) ও আবু সুফিয়ান বাবুল (৪৫)। 

কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে।