প্রশ্নটা ছিল, মুশফিকুর রহিমের খুলনা টাইগার্সকে রুখবে কে? সম্ভাব্য হিসেবে কয়েকটি নাম আসতে পারত। কিন্তু কেউ সম্ভবত টানা ৪ ম্যাচ হেরে খেলতে নামা সিলেট থান্ডারের কথা ভাবেনি।
কেউ না ভাবলেও সেই দলের দুই ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রীতিমতো বিধ্বস্ত হলো খুলনা। একমাত্র দল হিসেবে প্রথম তিন ম্যাচে জয় এবং অপরাজিত থাকার গর্ব ভাঙল। এবারের আসরের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান গ্রানাডার আন্দ্রে ফ্লেচার ইনিংসের আদ্যন্ত ব্যাট করেছেন। বিধ্বংসী রূপে সেন্ট লুসিয়ার জনসন চার্লস থেমেছেন নার্ভাস নাইন্টিজে। দুজনের দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ে আসরে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে সিলেট। তাও খুলনাকে ৮০ রানে হারিয়ে।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগের দু’দিন দুটি চারশ পেরুনো ম্যাচ হয়েছে। এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড পরের ম্যাচেই ভেঙে গেছে। এবার ফ্লেচারের ৫৭ বলে অপরাজিত ১০৩ (৫ ছক্কা ও ১১ চার) আর চার্লসের ৩৮ বলে, ঠিক একই সংখ্যার চার-ছয়ে ৯০-এ সিলেট করে ৫ উইকেটে ২৩২। যে সিলেটকে কেউ পাত্তাই দিচ্ছিল না, তারাই গড়ল বিপিএল ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।
আগের দুই হাইস্কোরিং ম্যাচে ২২২ ও ২৩৯ প্রায় তাড়া হয়ে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত না হলেও দু’ম্যাচের দলই দুশোর বেশি রান করেছে। সবাইকে উড়িয়ে দিতে থাকা খুলনা অবশ্য কোনো উত্তেজনাই আনতে পারেনি। ১৮.৩ ওভারে ১৫২ রানে অল আউট।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারের শেষ বলে ওপেনার আব্দুল মাজিদকে (২) হারানো আসলে শাপেবর হয়েছে সিলেটের জন্য। নামে থান্ডার। সেস্নাগানে ‘বজ্রপাত’। চার্লস-ফ্লেচার জুটিতে সেই ‘বজ্রপাত’ সিলেট থেকে প্রথমবার নামল খুলনার বোলারদের ওপর।
দেখতে না দেখতে ফিফটি পেরিয়ে যান চার্লস। সবকিছু উড়িয়ে দেওয়ার ভূমিকায় ছিলেন তিনি। ফ্লেচারও মারছিলেন। কিন্তু মূলত ছিলেন সহায়ক ভূমিকায়। ২৫ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরির পর তিন অংকের দিকেও দ্রুত এগিয়ে চলেন। ৮.১ ওভারেই ১০০ দলের। ১২ ওভারে দেড়শ। চার্লস যখন ৯০ এম, তখন ৫৪ ফ্লেচারের। তার ফিফটিও অবশ্য ২৬ বলে। কিন্তু খুব গুছিয়ে খেলে।
মোহাম্মদ আমিরকে টানা তিন বলে দুই বাউন্ডারি এক ছক্কা মেরে নার্ভাস নাইন্টিজ স্পর্শ করা চার্লসের সেঞ্চুরি তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দেশি পেসার শহিদুল ইসলাম পরের ওভারের ৩ বলে ১১ দিলেন ফ্লেচারকে। ওই ওভারে তার প্রথম বলটি খেলতে গিয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে যান চার্লস। কী এক স্বপ্নভঙ্গ! ৭০ বলে দ্বিতীয় উইকেটের ১৫০ রানের জুটি ভাঙে।
১৭৮তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ফ্লেচারের। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা তখন ডাকছে। মোহাম্মদ মিঠzন (৩), অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন (১১) সময়ের দাবি মেটাতে ব্যর্থ হলেন। আড়াইশ পেরিয়ে যাবে মনে হচ্ছিল। ততক্ষণে পুরো ২০ ওভার ব্যাট করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া ফ্লেচার ১৯তম ওভারের শেষটায় গিয়ে সেঞ্চুরির উৎসব করলেন। ৫৩ বলে তার কীর্তিটা।
জবাব দেওয়ার মতো শক্তি ছিল মুশফিকদের। কিন্তু শুরু থেকে উইকেট হারানোয় মোমেন্টাম হারিয়েছে। ফর্মে থাকা রাইলি রুশোকে (৩২ বলে ৫২) সঙ্গ দিতে পারেননি ওপরের দিকের ব্যাটসম্যানরা। অধিনায়ক মুশফিক নিজেও ১২ করে বলে তুলে ফিরেছেন। রবি ফ্রাইলিঙ্ক ২০ বলে ৪৪ এর ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তবে এই পর্যায়ে ফ্রাইলিঙ্কসহ তিন উইকেট তুলে নিয়ে আরেক ক্যারিবিয়ান জ্যামাইকান ক্রিসমার সান্টোকি খুলনার শেষটা করেছেন করুণ।