উইকেটটা যদি দেশে নিয়ে যেতে পারতেন ফ্লেচার!

ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। প্রথম এবারের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেরও। তাতে টানা চার হারের পর প্রথম জয় রংপুর রেঞ্জার্সের। ইনিংসের আদ্যন্ত খেলে ১০৩ রানে নিয়ে ফেরা ক্যারিবিয়ান ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচারের স্বপ্নালু উচ্চারণ, ‘আদর্শ উইকেট। এই উইকেটটা যদি দেশে নিয়ে যেতে পারতাম!’ তাহলে হয়তো আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফেরার চেষ্টা দ্রুত সাফল্যের মুখ দেখত।

মুশফিকুর রহিমের খুলনা ছিল একমাত্র অপরাজিত দল। গতকাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ফ্লেচারদের রংপুরের কাছে ৮০ রানে হেরেছে। প্রথম হারের পর মুশফিক মজা করেই বললেন, ‘খেলাটা জমিয়ে দিলাম আর কী! টুর্নামেন্টটা এখন জমে গেল। এখন (গতকালের দ্বিতীয় ম্যাচে) রংপুরও যদি জিতে যায় তাহলে টুর্নামেন্ট আরও উন্মুক্ত হয়ে যাবে।’

মুশফিক হাসছিলেন। তবে হারতে তো কেউ চায় না। তবু হার যে কোনো সময় আসবে জানতেন বলে মুশফিকের আক্ষেপ, ‘আমরা আরেকটু যদি লড়াই করতে পারতাম। যদি আরেকটু কাছাকাছি যেতে পারতাম। কারণ, হারজিত থাকবেই। ব্যবধানটা কম হলে আমাদের জন্য ভালো হতো।’

দুই ক্যারিবিয়ান আসলে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে শুরুতেই অনেকটা শেষ করে দিয়েছেন সব। দ্বিতীয় উইকেটে জনসন চার্লস ও ফ্লেচারের মধ্যে ১৫০ রানের জুটি মাত্র ৭০ বলে। তারা আড়াইশোর স্বপ্নও দেখিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য হয়েছে বিপিএলের ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলগত স্কোর। সেটা ৫ উইকেটে ২৩২। ম্যাচের সেরা ফ্লেচার। তবে হতে পারতেন চার্লস। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৩৭ বলে ৯০ করে আউট।

আগের চার ম্যাচে নিচের দিকে ব্যাট করে তেমন কিছু করতে না পারা চার্লস ৩-এ নেমে সফল। কোচ-অধিনায়ককে যেন কথা দিয়ে তা পূরণ করেছেন ফ্লেচার, ‘কোচ চাচ্ছিল কেউ একজন লম্বা ইনিংস খেলুক। অধিনায়ককে ম্যাচের আগে বলেছিলাম জনসন আর আমি আমাদের সেরা চেষ্টা করব। ও আর আমি যদি ১০ ওভার করেও ব্যাট করতে পারি তাহলে বড় একটা স্কোর গড়ব।’

তা হয়েছে, দল জয়ে ফিরেছে। কিন্তু উইন্ডিজ দলে যে ২০১৬’র পর আর খেলা হয়নি। সেক্ষেত্রে? ‘দুর্ভাগ্যক্রমে আমি এখন উইন্ডিজ দলে খেলতে পারছি না। তবে আশা করছি আরও যতটা সম্ভব রান করে দলে ফিরব।’