ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের দপ্তর ও ডাকসু ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। হামলা-ভাঙচুরে ভিপি নুরসহ আটজন আহত হয়েছেন।
রবিবার বেলা ১টার দিকে ডাকসু ভবনে গিয়ে ভিপির কক্ষ এবং ডাকসু ভবনে ভাঙচুর চালায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের লোকজন। এ সময় নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ডাকসু ভিপি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সভাপতি ছাত্রলীগ থেকে সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী ডাকসু ভিপির কক্ষ ও ডাকসু ভবনে ভাঙচুর চালায়।
এ সময় ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত ডাকসুর কয়েকজন সদস্য মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে হামলা বিরত থাকার অনুরোধ জানান। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের লোকজন জামায়াত-শিবির আখ্যায়িত করে তাদেরকেও মারধর করে।
হামলায় ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত সূর্যসেন হল সংসদের ভিপি মারিয়াম জামান সোহান ও জিএস সিয়ামও অংশ নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারাও ভিপি নুরের অনুসারীদের লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি এখনো শান্ত হয়নি। নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ আছেন ডাকসু ভিপি নুর। বাইরে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
ভিপি নুরের ফেইসবুক পেজে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে দেওয়া লাইভে দেখা যায়, বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা রাশেদ খান কথা বলছেন। নুরসহ কয়েকজন কক্ষের মেঝেতে পড়ে আছেন।
রাশেদ খানকে বলতে শোনা যায়, ‘শাহবাগ থানা পুলিশের সাহায্য কামনা করছি। এখানে আমাদের সবার অবস্থা খারাপ।’
বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে নির্বাচিত ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অনেকে আহত হয়েছেন। ভিপি নুর এখনো অবরুদ্ধ।’
এ বিষয়ে জানতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।