চলতি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিবিপিএল) এরই মধ্যে বেশ কজন তরুণ নজর কেড়েছেন। বিশেষ করে মেহেদী হাসান রানা, মুকিদুল ইসলাম, হাসান মাহমুদদের মতো তরুণ পেসাররা আলোচনায় উঠে এসেছেন। কেউ কেউ শ্রীঘ্রই জাতীয় দলেও দেখছেন তাদের।
তবে মুশফিকুর রহিম একদিন আগেই বলেছেন, এক-দুই ম্যাচ দেখেই তরুণদের মাথায় না তুলতে। এ অবস্থায় নির্বাচকদের ভাবনা কী? বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু রবিবার চট্টগ্রামে কথা বললেন সে প্রসঙ্গে। যিনি কুমিল্লার ওয়ারিয়র্সের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে রয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে তার আলাপচারিতা চুম্বক অংশ দেশ রূপান্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
প্রশ্ন: চট্টগ্রামে খুব রান হচ্ছে। ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এটা কতটা কাজে লাগবে?
নান্নু: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক্সাইটমেন্টই হলো রান হতে হবে, চার-ছক্কা হতে হবে। চট্টগ্রামের ভেন্যুতে অনেক রান হচ্ছে, এটা দর্শকদের জন্য ভালো। ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। তবে বোলারদের জন্য হতাশার ব্যাপার অবশ্যই। একেক ভেন্যুতে একেক ধরনের উইকেট থাকবে এটাই নিয়ম। সব উইকেটেই একটা চ্যালেঞ্জের ব্যাপার থাকে খেলোয়াড়দের জন্য। ঢাকায় যদি সংগ্রাম করে থাকে চট্টগ্রামে আরামে খেলছে। সিলেটে আবার স্ট্রাগল করে। একেক জায়গায় একেক ধরনের উইকেট হলে আমাদের জন্য ভালো।
প্রশ্ন: পাকিস্তান সফরের জন্য টি-টোয়েন্টি দলটা কেমন হবে?
নান্নু: বিপিএলে হাফ অব টুর্নামেন্ট না হলে তো টিম নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে পারছি না। অর্ধেকটা হোক তারপরর আমরা এটা নিয়ে চিন্তা করব।
প্রশ্ন: পারফরম্যান্স বিবেচনায় কোনো চমক থাকবে?
নান্নু: শর্টার ভার্সনের পারফরম্যান্সে খুব কঠিন এখান থেকে খেলোয়াড় নেওয়া। লংগার ভার্সন ক্রিকেটে যেমন একটা খেলোয়াড়ের সব ক্ষেত্র দেখা যায়। বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং- শর্টার ভার্সনে খুব কমই দেখা যায়। কারণ সুযোগ অনেক কম থাকে। পারফরমারের এটা তো অবশ্যই কাউন্টেবল। যারা পারফর্ম করছে, ইয়াংস্টার যারা পারফর্ম করছে অবশ্যই তারা নজরের মধ্যে আছে।
প্রশ্ন: যে কয়টা ম্যাচ হয়েছে সেখানে জাতীয় দলের তারকাদের মধ্যে কারা আপনার প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে?
নান্নু: দুই একটা খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স যথেষ্ট নজর কেড়েছে। এদের ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল কিন্তু ঘরোয়ার সঙ্গে আকাশ-পাতাল তফাত। এই মঞ্চটা কিন্তু আলাদা। ঘরোয়া ক্লাব পারফরম্যান্স করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফরম্যান্স করা অনেক অনেক তফাত। সুতরাং এখানে কিন্তু অনেক কিছু বিবেচনায় আনতে হয়। সবচেয়ে ভালো লেগেছে এইচপিতে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই ভালো খেলছেন। এইচপিতে যাদের নার্সিং করা হয়েছে তাদের উন্নতি কতটুকু আমরা এখানে দেখতে পারছি।
প্রশ্ন: পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ এখনো চূড়ান্ত না। তাতে দল গঠন কীভাবে হবে?
নান্নু: আমাদের প্রস্তুতি আমাদের নিয়ে রাখতে হবে। আমাদের নির্দিষ্ট একটা সময় আছে। সে সময়ের মধ্যে আমাদের দল রেডি করে রাখব।
প্রশ্ন: মুশফিকুর রহিম বলেছেন তরুণকে কয়েকটা ম্যাচ দেখেই ওপরে না তোলার...
নান্নু: যে কোনা ইয়াংস্টারের কাজ হচ্ছে চিন্তা-ভাবনা করা, যেন পরবর্তী পনেরো বছর ভালো স্ট্যান্ডার্ডে ক্রিকেট খেলতে পারি। একদিনে একটা, দুটো ম্যাচ দেখে কাউকে বিবেচনা করা যায় না। ১৫ বছরের একটা গোল সেট করতে হবে। আন্তর্জাতিকের জন্য কমপক্ষে ১০ বছরের একটা লক্ষ্য রাখতে হবে যেন দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। এ ধরনের গোল সেট করতে না পারলে একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স কখনোই একটা স্ট্যান্ডার্ডে থাকে না। সুতরাং একটা-দুইটা ম্যাচ একটা আউটস্ট্যান্ডিং বল দেখে কখনো বিবেচনা করা যায় না। তিন ফরম্যাটের জন্য তৈরি হতে হবে। তিন জায়গায় ভালো খেলার পর বলা যাবে এই প্লেয়ারটা কত দূর যাবে।