ইউরোপ সেরা লিভারপুল এখন বিশ্বসেরা ক্লাব। ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের ফ্ল্যামেঙ্গোকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এই শিরোপা জিতেছে তারা। দোহার খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট ছিল গোলশূন্য। অতিরিক্ত সময়ের ৯ মিনিটে গোল করে অলরেড সমর্থকদের উল্লাসে মাতান রবার্তো ফিরমিনো।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের (২০০৮) পর দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। ১৯৮১, ১৯৮৪, ২০০৫-নিজেদের ইতিহাসে খেলা আগের তিন ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রতিটিই হেরেছিল লিভারপুল। ১৯৮১ ও ১৯৮৪ সালেরটি ছিল ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ নামে। এর মধ্যে ১৯৮১ সালে হেরেছিল এই ফ্ল্যামেঙ্গোর কাছেই।
১৯৬০ থেকে ২০০৪ এই টুর্নামেন্ট হতো ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ নামে। তখন শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ীর সঙ্গে কোপা লিবার্তাদোরেস জয়ীর খেলা হতো। মাঝে ২০০০ সালে ক্লাব বিশ্বকাপ এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ দুটোই হয়। ২০০৫ সাল থেকে ক্লাব বিশ্বকাপ নিয়মিতভাবে হচ্ছে। এবং ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।
শনিবার রাতে খেলার নির্ধারিত সময় শেষেও শঙ্কা ছিল হারের। তবে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির বিপক্ষে অলরেডদের রক্ষা করলেন এক ব্রাজিলিয়ানই। ম্যাচের শুরুর দিকে এগিয়ে যেতে পারত লিভারপুল। হেন্ডারসনের পাসে ফিরমিনোর চিপ প্রতিহত হয় বারপোস্টে। খেলার প্রথম ১০ মিনিটে আরও দুবার আক্রমণ করে অলরেডরা। প্রথমার্ধে বেশ কিছু আক্রমণ করে ফ্ল্যামেঙ্গোও।
দ্বিতীয়ার্ধর শুরুতে ফিরমিনোর শট আবারও বারে লাগে। ৫৮ মিনিটে ফ্ল্যামেঙ্গোর বারবোসার দুর্দান্ত শট রুখে দেন লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার অ্যালিসন। ৭৬ মিনিটে সাদিও মানের পাস থেকে গোল করেন সালাহ, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। নাটক জমে ওঠে নির্ধারিত সময়ের ইনজুরি টাইমে। সাদিও মানেকে বক্সের কাছে ফাউল করলে বাঁশি বাজান রেফারি। ফাউলটি বক্সের ভেতরে হয়েছে নাকি বাইরে তা দেখতে ভিএআর চেক করেন। সে সময় দেখা যায় কোনো ফাউলই হয়নি। পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয় লিভারপুল। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ফ্ল্যামেঙ্গো আর রুখতে পারেনি লিভারপুলকে। ৯৯ মিনিটে সাদিও মানের পাস থেকেই গোল করেন ফিরমিনো।
ফিরমিনোর প্রশংসা ঝরেছে কোচের কণ্ঠে, ‘সে গোলটি করতে পেরেছে তার জন্য আমি খুব খুশি।’ দল সম্পর্কে ক্লপ বলেন, ‘ছেলেদের প্রতি আমার যে শ্রদ্ধা তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এটা দুর্দান্ত এক জয়।’ ক্লপ আরও বলেন, ‘আজ অনেকে দারুণ পারফরমেন্স করেছে এবং তাতে আমি অনেক খুশি। ক্লাবের জন্য এটি ছিল দারুণ এক রাত।’ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর উয়েফা সুপার কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপও জিতল লিভারপুল।
ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লামেঙ্গো ভালোই টক্কর দিয়েছে লিভারপুলকে। দল হারলেও হতাশ নন কোচ জর্জ জেসুস বলেন, ‘আমরা সমান ভাবে ম্যাচে ছিলাম। দল যা করেছে তাতে আমি খুশি। আজ আমরা প্রমাণ করেছি-ভবিষ্যতে ব্রাজিলের ক্লাবগুলো ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে সমমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে।’